আমার প্রিয় শখ বাগান করা এবং তার উপকারিতা

এই টপিকে আমরা শখ নিয়ে আলোচনা করবো। বিভিন্ন মানুষের বিভিন্ন শখ থাকতে পারে যাতে তাদের মন হাল্কা হয়। নানান শখ এর মধ্যে ‘আমার প্রিয় শখ বাগান করা’ নিয়েই আলোচনা করবো এখানে। পরবর্তী পোস্ট গুলো তে আরও অন্যান্য শখ নিয়ে আলোচনা করবো।

তাই বিভিন্ন রকমের শখের উপকারিতা জানতে জুড়ে থাকুন আমাদের সাইটের সাথে। এতে আপনারাই উপকৃত হবেন।

আপনারা উৎসাহিত এবং মোটিভেটেড হবেন। এর সাথে সাথে ছাত্র ছাত্রীদের বাংলা পরীক্ষাতে রচনা লিখতে সাহায্য করবে এই টপিক গুলো।

শখ কাকে বলে?

শখ হল এমন এক ক্রিয়া যা করার ফলে মনের মধ্যে আনন্দ আসে। শখ হল এমন কর্ম যা করলে আপনার মনে হবে সময় খুব জোরে চলছে।

শখ কি?

শখ হল এমন কাজ যা সম্পন্ন করাতে কষ্ট হয় না, বরং ভালো লাগে। যেসব কাজ করলে আমরা কখনই ক্লান্ত তো হয়ই না বরং উল্টে শক্তি পেয়ে থাকি।

কিন্তু কাজ করলে ক্লান্তি আসবে না হয় নাকি?

শরীর এর স্বভাব ই তো তাই। কাজ করলেই ক্লান্তি আসবে।

কিন্তু শখ এর ক্ষেত্রে ভালবাসা এত গভীরভাবে আমাদের সাথে যুক্ত হয়ে থাকে; যে ক্লান্তি সহজে আমাদের গ্রাস করতে পারে না।

শখের প্রয়োজনীয়তা কি?

প্রতিটি মানুষেরই কিছু নির্দিষ্ট কাজকর্ম আছে। প্রত্যেকদিন সেইসব কাজ করতে করতে স্বাভাবিকভাবেই মানুষের মনের মধ্যে একঘেয়েমি বাসা বাঁধে।

আর এই একঘেয়েমি থেকে মুক্তি পেতে কে না চায়?

এই একঘেয়েমি থেকে মুক্তি পেতেই তো প্রয়োজন শখের। একঘেয়েমি কাজের মধ্যে ব্যস্ততা থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায় কি বসে থাকা হতে পারে?

অনেকেই আছেন যারা কাজ করতে করতে ক্লান্ত হয়ে পড়লে দুদিন বসে বসেই কাটিয়ে দেন।

এইভাবে বসে বসে সময় কাটালে মানসিক ক্লান্তি বেড়ে যায়।

তাই আমাদের এমন কিছু করা উচিত যাতে শরীর ও মন দুইই হাল্কা হয়। আর সেইরকম কাজগুলোকেই শখ বলা হয়।

কি কি শখ থাকতে পারে?

কাজের মধ্যে যেমন খুবই বৈচিত্র্য, ঠিক তেমনি শখের মধ্যেও অনেক বৈচিত্র্য।

ছবি আঁকা, গান শোনা, গান গাওয়া, নাচ করা, টিভি দেখা, খেলাধুলা করা, বাগান করা, সেলাই করা, রান্না করা, সাঁতার কাটা,গল্প বই পড়া, ইত্যাদি।

আমার প্রিয় শখ বাগান করা

আমার প্রিয় শখ কিন্তু গাছেদের মধ্যে থাকা। যখনই আমি ফ্রি থাকি, চলে যায় গাছেদের কাছে।

এমন কি যখন মন খারাপ হয় তখনও চলে যায় তাদের কাছে।

আবার যখন কাজ করতে করতে ক্লান্ত হয়ে পড়ি, তখনও চলে যায় তাদের কাছে।

কখন যে গাছগুলোকে ভালোবেসে ফেলেছি, টেরও পাই নি। ওরা যেন আমার একান্ত আপনজন হয়ে উঠেছে।

সময়ের সাথে সাথে আমি ওদের সাথে জড়িয়ে পড়েছি। নানান রকমের গাছ।

আর সব গুলো আমার হাতে লাগানো। এখন তারা কতো বড় হয়ে গেছে। কতো ফুলের বাহার সেখানে। এক মিষ্টি গন্ধ ভাসে আমার প্রিয় বাগানে।

ফলের গাছও আছে প্রচুর। লঙ্কা থেকে শুরু করে লাউ, কুমড়ো, ভেন্ডি সব সব্জিই আছে আমার বাগানে।

এখনো মনে পড়ে, গত কালবৈশাখী তে আমার লাগানো আম গাছটা থেকে যখন আম পড়ছিলো মাটিতে, কি ভালোই না লাগছিল।

কিছু আম তো আমার মাথায় পড়েছিলো। ব্যথা লাগলেও আনন্দই ছিল বেশী।

প্রতিবছর আমি ওই বৈশাখ মাসের ঝড়ের সময়ে আমি আমার গাছদের সাথে থাকি।

তবে ঝড়ের গতিবেগ বেশী হলে, আমার গাছের ডাল গুলো নুয়ে গেলে, গাছেদের সাথে আমারও কান্না আসে চোখে।

আমার প্রিয় শখ – এর উপকারিতাগুলো কি কি?

প্রতিটি শখ এরই প্রচুর উপকারিতা আছে। “আমার প্রিয় শখ বাগান করা” এর উপকারিতা গুলো কি কি দেখে নিন-

তাজা মন

আপনার কি মন খারাপ? তাহলে গাছ লাগান। জায়গা যদি না থাকে অন্ততপক্ষে ২-৩ টে হলেও ফুল গাছ লাগান।

জায়গার অভাব না হলে, কিছু সবজি আর কিছু ফল গাছ লাগান।

নিজের হাতে লাগানো আম বা পেয়ারা গাছ থেকে এক বছর পরে যখন আম বা পেয়ারা পেড়ে খাবেন, সেই আম বা পেয়ারা হাজারগুনে বেশী সুস্বাদু লাগবে।

আর এতে আপনার মন তাজা হয়ে উঠবে।

শরীর ভালো থাকে

ছাদের মধ্যে গাছ লাগিয়ে আপনি প্রিয় শখ বাগান করা এর আনন্দ ও সুবিধা নিতে পারেন।
ছাদের মধ্যে বাগান

আপনি হয়তো ভাবছেন গাছ লাগালে শরীর কি করে ভালো থাকবে? এখনকার দিনে প্রতিটি মানুষেরই শারীরিক পরিশ্রম অনেক খানি কমে গেছে।

এতে আমাদের শরীরে নানান রোগব্যাধি দেখা দেয়। তখন ছুটতে হয় ডাক্টারবাবুর কাছে।

ডাক্টারবাবু বলেন- প্রত্যহ সকালে হাঁটাহাঁটি করবেন। খালি পায়ে ঘাসের ওপর হাঁটতে পারলে আরও ভালো। কিন্তু এই ভীড় শহরে পায়চারী করার জায়গা টুকুও পাওয়া যায় না।

তাই গাছদের পরিচর্যার সময়ে আপনার কিছুটা হলে হাঁটাহাঁটি হয়ে যাবে। এতে আপনার শরীর ভালো হয়ে যাবে।

আর যদি আপনার নিজস্ব বাড়ী থাকে, তাহলে আপনি ছাদে বাগান বানাতে পারেন, আর যদি গ্রাউন্ডেই জায়গা পান, তাহলে বেশ বড় বাগান করতে পারেন।

সেই বাগানের মধ্যে যেটা রাস্তা, সেখানে কিছু ছোট ঘাস লাগিয়ে দিতে পারেন। তারপর সেই ঘাসের ওপর আপনি প্রত্যেকদিন সকালে হাঁটাহাঁটি করতে পারেন।

পজিটিভ শক্তি লাভ

যখন আপনার চারিদিকে শুধু “না” কথাটা বিরাজ করবে; যখন আপনার চারিপাশের লোক বলে যে আপনার দ্বারা কিছু হবে না; তখন আপনি আপনার বাগানে যাবেন।

দেখবেন, ওখানে গাছগুলো কিন্তু নেগেটিভ কথা একদমই বলছে না। কারন আপনার কষ্টে ওদেরও কষ্ট হয়। তফাৎ এই যা- ওরা তা প্রকাশ করতে পারে না।

দেখবেন, গাছগুলো বলছে –“ এতো দুঃখ কিসের! মনের মধ্যে জোর রাখো। তুমি পারবে। হাজারবার পারবে। তুমিই শুধু পারবে।“ এক অদ্ভুত শক্তি পাবেন আপনি।

শুধু শুধু বসে থাকা থেকে মুক্তি

যারা কাজ থেকে মুক্তি পেতে বসে বসেই কিছুটা সময় কাটিয়ে দেন, তারা তো আসলে সময় কে অবহেলা করে থাকেন। সময় কে অবহেলা করা একদম ই উচিত নয়। তাছাড়া, বসে থাকলেই, আমাদের মনে শুন্যতা তৈরি হয়।

আর প্রকৃতির নিয়ম অনুসারে কোন কিছুই শুন্য থাকতে পারে না, তাই তো ওই শুন্যতা পূর্ণ করতে ছুটে আসে এক রাশ নেগেটিভ চিন্তা।

এই নেগেটিভ চিন্তা যাতে না আসে, সেইজন্যই প্রতিটি মানুষের শখ থাকা একান্তই জরুরী।

ভালো কাজের মধ্যে নিজেকে ব্যস্ত রাখা

মনের মধ্যে নেগেটিভে চিন্তা কখনই আসবে না, যদি আপনি নিজেকে সবসময় ভালো কাজের মধ্যে ব্যস্ত রাখেন।  আর বাগান করা তো ভালো শখ।

ভালো পরিবেশ তৈরি করা

আপনি যদি এই ভীড় শহরের ইট পাথর বালি সিমেন্টের মাঝে এক টুকরো জমিতে একটা সুন্দর বাগান করতে পারেন, তাহলে পরিবেশ আপনার ওপর খুশী হয়ে যাবে। কারন আপনি পরিবেশ কে সুন্দর করে তুলছেন।

কার্বন ডাই অক্সাইড এর পরিমান কমাতে একটু হলেও আপনি সাহায্য করছেন।

চাইলে শখ থেকে টাকাও রোজগার করতে পারেন

আপনি কি জানেন যে “ আপনার প্রিয় শখ বাগান করা” থেকে আপনি টাকাও রোজগার করতে পারেন? কিভাবে? তাই ভাবছেন তো?

যদি আপনি বাগানটাকে একটু বড় মাপের করতে পারেন তাহলেই এটা সম্ভব। বড় বাগানে, বেশী পরিমানে ফুল, ফল, সবজি হবে। সেইসব কিছুই আপনি বাজারে কারো মাধ্যমে বিক্রি করতে পারেন।

যদি বিক্রি করতে আপনার খারাপ লাগে, আপনি ওই সব ফুল ফল এবং সবজি নিজের বাড়ীতে কাজে লাগাতে পারেন। এতে আপনার বাড়ীর যে দৈনিক খরচ তা কমে যাবে। এর ফলে আপনার সেভিংস বাড়বে।

আর সেভিংস বাড়াও তো এক প্রকারের রোজগারই হল। তাই কি নয়?

উপসংহার

এতো কিছু উপকারের জন্য আমার প্রিয় শখ বাগান করা। সবচেয়ে বেশী ভালো লাগে, যখন ভাবি যে আমি এই পরিবেশ কে দূষণের হাত থেকে কিছুটা হলেও রক্ষা করছি। গর্ববোধ হয় এমন কাজের জন্য।

যারা বাগান করতে পারছেন না, জায়গার অভাবের জন্য; তাদের উদ্দ্যেশে বলবো যে তারা ঝুলন্ত টব কিনতে পারেন। বেলকনি তে সেই টব গুলো ঝুলিয়ে রাখতে পারেন।

আমার প্রিয় শখ বাগান করা নিয়ে প্রচুর তথ্য শেয়ার করলাম। আশা করি আপনাদের/ তোমাদের ভালোই লাগলো। কমেন্ট বক্সে আপনাদের প্রিয় শখ কি তা লিখে অবশ্যই জানাবেন।

ছাত্রছাত্রীরা সাহিত্য এবং মোটিভেশন এর ওপর যে কোন বিষয় নিয়ে লিখার জন্য আমাকে কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করে জানাতে পারেন। আমি অবশ্যই সেইসব নিয়েও পোস্ট করবো।

সুস্থ থাকুন, ভালো থাকুন, সবাইকে ভালো রাখুন। চলুন, সবাই মিলে একসাথে এক সুন্দর পৃথিবী গড়ে তুলি। এই পৃথিবীর প্রতিটি কোনা ভরে উঠুক ঈশ্বরের আশীর্বাদে!  আমার প্রিয় শখ বাগান করা টপিক টি শেয়ার করুন যাতে আমি উৎসাহিত হয়ে আরও ভালো লিখতে পারি।

One thought on “আমার প্রিয় শখ বাগান করা এবং তার উপকারিতা

  1. Pingback: আমার প্রিয় শখ ছবি আঁকা রচনা - Bengali Motivation

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাম্প্রতিক পোস্ট