কিভাবে পাত্র বা পাত্রী নির্বাচন করবেন?

আপনি কি বিয়ের জন্য পাত্র বা পাত্রী খুঁজছেন? বড়দেরকে দেখেছেন যে তাদের দাম্পত্য জীবন সুখী হয় নি? তাই কি আপনি চিন্তায় আছেন? পাড়া পড়শি বোলেই চলেছে যে বিয়ের বয়স পেরিয়ে যাচ্ছে? আপনি কি ভয় পাচ্ছেন সঠিক পাত্র বা পাত্রী খুঁজতে? তাহলে এই পোস্ট টি রইল আপনার জন্য। পোস্টটি শেষ অবধি পড়ে পরে কমেন্ট করে জানাতে ভুলবেন না যেন যে আপনার মনের ভয় দূর করতে পারলাম কিনা।

কিভাবে পাত্র বা পাত্রী নির্বাচন করবেন?

এই পোস্টটিকে কয়েকটা বিভাগে ভাগ করা যাক- যেমন ধরুন প্রথমেই বলবো কিভাবে পাত্র নির্বাচন করবেন। যদি আপনি কারো প্রেমে পড়েছেন আর এই প্রেমটাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা ভাবছেন, তাহলে বলবো পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যাওয়ার আগে এই পোস্ট টি পড়ুন। তারপরে বলবো কিভাবে পাত্রী নির্বাচন করবেন। তাহলে আর সময় নষ্ট না করে পোস্টটি শুরু করা যাক।

পাত্র বা পাত্রী নির্বাচন করার উপায়গুলো জানার প্রয়োজন কি?

আচ্ছা, আপনি কেন জানতে চাইছেন এই উপায়গুলো? একজন কে চোখের দেখায় ভাল লেগে গেলো, বিয়ের বয়স ও হয়ে গেছে, বিয়েটা করে ফেলুন। তাই না? আগে নিজেকে প্রশ্ন করুন আপনি কেন জানতে চাইছেন? আপনি কি চান জীবনে? বিয়ে জিনিষটার গুরুত্ত্ব কতখানি আপনার কাছে? আপনি পাত্র বা পাত্রী যেই হয়ে থাকুন না কেন, অন্য দিকের মানুষটার মর্যাদা রাখতে সক্ষম তো?

আমার মনে হয় যাদের কাছে এই জীবনে বিয়ের কোন গুরুত্ত্ব নেই, তাদের এই পোস্টটা না পড়াই ভাল।

আপনি কি একজন সুন্দর পার্টনার এর খোঁজে? আপনি কি জীবনসঙ্গী খুঁজছেন যিনি আপনাকে বুঝবেন, আপনাকে মুল্য দেবেন, আপনার সাথে সময় কাটাতে ভালবাসবেন? আপনি যদি মহাদেব হয়ে থাকেন, আপনার দুর্গা এর খোঁজ করা উচিত। আর আপনি যদি দুর্গা হয়ে থাকেন, আপনার মহাদেব খোঁজা উচিত।

আপনি কেন বিয়ে করতে চাইছেন, এই প্রশ্ন টাও নিজেকে একবার করুন? সারাটা জীবন একা না কাটিয়ে একজন ভাল পার্টনার এর সাথে মিলে মিশে সব কাজ করে জীবনে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার জন্যই কি বিয়ে করতে চাইছেন? নাকি কিছু শারীরিক চাহিদা মেটানোর জন্য আর বাবা/ মা হওয়ার জন্য বা আপনার বাবা মা আপনাকে চাপ দিচ্ছেন বলেই আপনি কি বিয়ে করতে চাইছেন?

আপনি যদি জীবন কে সুন্দরভাবে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চান, আবার সেটাও একজন ভাল পার্টনার এর সঙ্গে চান, তাহলে নীচের পোস্টটি আপনার জন্য।

আপনি যদি প্রত্যেকটা সিদ্ধান্ত ধিরে সুস্থে নিতে পারেন, তাহলে জীবন টাকে সাজাতে পারবেন। তাই তাড়াহুড়ো করবেন না যেন। জানেন তো ভালো জিনিষ পেতে একটু সময় লাগে। দেখেন নি- শাড়ির দোকানে একটা ভালো শাড়ী বাছতে কতোটা সময় লেগে যায়? তাই একদম তাড়াহুড়ো করবেন না যে যাই বলুক না কেন। এবার চলুন কিভাবে পাত্র বা পাত্রী নির্বাচন করবেন সেগুলো দেখে নেওয়া যাক।

কিভাবে পাত্র নির্বাচন করবেন?

দেখুন কিছু কিছু জায়গায় জীবন টাকে সিরিয়াসলি নেওয়া উচিত। পাত্র নির্বাচনের ক্ষেত্রে একদমই তাই। আপনি নিশ্চয়ই এমন একজন পাত্র চাইছেন যে আপনাকে বিয়ের আগে যেমন ভালবাসবে, বিয়ের পরেও তেমনি ভালবাসবে,এমন কি বিয়ের ২৫-৩০ বছর পরেও ঠিক তেমনিই ভালবাসবে। কি তাই তো? সব মেয়েরাই এরকম জীবনসঙ্গী চায়। পাত্র নির্বাচনের সময়ে তারা এতটা ব্যাপারটা কে সিরিয়াসলি নেয় না। বেশিরভাগ মেয়েরাই দেখে ছেলেটা স্মার্ট কিনা আর দেখতে হ্যান্ডসাম কিনা। আর সেই সময়ে ছেলেটা যদি কিছু আকর্ষণীয় কথা বার্তা বলতে থাকে বা দেখাতে থাকে সে মেয়েটার কত যত্ন করে,তাহলে মেয়েটার হৃদয় তাতেই পূর্ণ হয়ে যায়। আর এখানেই হয়ে থাকে মারাত্মক ভুল।
বেশি যত্ন নেওয়া, বেশি মুখরোচক কিছু কথা বলা – এগুলোতেই গলে যাবেন না যেন।
প্রথমে ছেলেটির সঙ্গে বন্ধুত্ব করুন। তারপরে ধীরে ধীরে কথার ছলে নিচে উল্লিখিত জিনিষগুলো জানুন:

  1. যত্ন নেওয়া টা কি তার স্বভাব? সে কি তার মা বাবা এরও সমানভাবে যত্ন নেয়? এমন তো নয় যে কিছু হরমোনের দৌরাত্ম্যে সে আপনার যত্ন নিয়ে আপনাকে তার দিকে আকর্ষিত করতে চাইছে? যদি যত্ন নেওয়া টা তার জন্মগত চরিত্রের মধ্যে পড়ে, যদি সে তার বাবা মায়েরও একইরকমভাবে যত্ন নিয়ে থাকে, তাহলে আপনি এই সম্পর্কে এগিয়ে যেতে পারেন। মনে রাখবেন- যে ছেলে তাঁর বাবা মায়ের নুন্যতম যত্ন টুকু নিতে পারে না, সেই ছেলে আর যাই হোক, জীবনের শেষ দিন অবধি ভালো হাজব্যান্ড হয়ে থাকতে পারে না।
  2. প্রচুর কথা বলুন। যদি মুখোমুখি কথা বলতে না পারেন তো ফোনে কথা বলুন। কি ধরনের কথা তে সে বেশি ইন্টারেস্টেড সেটা দেখুন। কথা বলার মাধ্যমেই বুঝতে পারবেন অনেক কিছু। বরং বেশি স্পর্শে জড়াবেন না। দেখুন তার সাথে কথা বলতে কি ইন্টারেস্ট পাচ্ছেন? যদি ইন্টারেস্ট পাচ্ছেন তাহলে এগিয়ে যেতে পারেন কিন্তু ধীরে ধীরে।
  3. তাড়াহুড়ো করবেন না। প্রতিটি পদক্ষেপ ধীরে ধীরে নিন।
  4. কথা বলার মাধ্যমে জানুন তিনি অবসর সময়ে কি করতে ভালোবাসেন, তার রোজকার অভ্যাস গুলো কেমন।
  5. নানান ধরনের টপিক নিয়ে কথা বলুন। দেখুন সেই কথা বলাতে আগ্রহ পাচ্ছেন কিনা।
  6. যিনি আপনাকে সত্যিকারের ভালবাসবেন, তিনি মন দিয়ে আপনার কথা গুলো শুনবেন। তাই লক্ষ্য রাখুন আপনি যখন অনর্গল কথা বলেই চলেছেন তখন তার প্রতিক্রিয়া কি? তিনি কি আপনার অনর্গল কথা বলাটা আনন্দের মধ্যে দিয়ে কাটাচ্ছেন নাকি বিরক্ত হয়ে যাচ্ছেন? এইসব কিছুর দিকে খেয়াল রাখুন। খেয়াল রাখুন কিন্তু গোপনে।
  7. দিনের পর দিন কথা বলে জানার চেষ্টা করুন তিনি কি পরিশ্রম করতে ভালবাসেন? নাকি সুস্থ শরীর থাকা সত্ত্বেও বসে থেকেই ছুটির দিন গুলো পার করে দিতে তিনি ভালবাসেন? মনে রাখবেন- পরিশ্রমী ছেলেদের মন ভালই হয়ে থাকে। তবে এর ব্যাতিক্রম ও থাকতে পারে। তাই সব পয়েন্টগুলোর দিকে খেয়াল রাখুন।

কিভাবে পাত্রী নির্বাচন করবেন?

বর্তমান সমাজে একজন পুরুষ মানুষের জীবনও দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। যদি তাঁর স্ত্রী তাঁর সমান না হয়ে থাকে, বা যদি মেনে চলার ক্ষমতা না থাকে, যদি তিনি উদার হৃদয়ের না হয়ে থাকেন, তাহলে সেই স্ত্রী ওই পুরুষ মানুষটির সারাটা জীবন নষ্ট করে দিতে সক্ষম। তাই পাত্রী নির্বাচন করার উপায়গুলো জেনে নিনঃ

  1. জানেন তো সংসার সুখী হয় রমণীর গুনে। কথাটা পুরোটা সত্যি না হলেও আংশিক তো সত্যি। তাই কথা বলার মাধ্যমে জানুন তিনি কি ভালবাসেন। মেয়েরা প্রচুর কথা বলতে ভালবাসে। তাই বেশ এক মাসের কথা বার্তাতেই আপনি বুঝে যাবেন যে তিনি কি ভালবাসেন? তিনি কি পরনিন্দা/ পরচর্চা করতে ভালবাসেন? তিনি কি একটুতেই মাথা গরম করে ফেলেন? তাহলে নীচের আরো বাকি পয়েন্টগুলো দেখুন।
  2. তিনি কি অঢেল সময় থাকলে তাঁর মা বাবা কে কাজে সাহায্য করেন? সাহায্য মানেই যে রান্না করাতে সাহায্য করতে হবে, সে কথা বলছি না। যে কোন রকমের সাহায্য কি তিনি করে থাকেন যখন তাঁর হাতে প্রচুর সময় থাকে? যদি করে থাকেন, তাহলে এগোতে পারেন।
  3. তিনি কি দয়ালু? অন্যের দুঃখে কি কাতর হয়ে যান? একটুতেই কি কান্না কাটি করে থাকেন? মনে রাখবেন এই ধরনের মেয়েরা কিন্তু তাদের জীবন সঙ্গীর জন্য অনেক ভালো কিছু করতে সক্ষম হয়ে থাকেন।
  4. তিনি কি অন্যদের সাহায্য করতে পছন্দ করেন? তিনি ভাই বোনদের সাথে মিলে মিশে থাকতে পছন্দ করেন? যদি করে থাকেন তাহলে এই সম্পর্কে এগিয়ে যেতে পারেন।
  5. তিনি কি বড়দের কে সম্মান দিয়ে থাকেন? অযথা তর্ক করে ঝগড়া বাধাতে ঘৃণা করেন? যদি তাই হয়ে থাকে তাহলে সামনের দিকে এগিয়ে পারেন।
  6. কথা বলার মাধ্যমে জানুন তাঁর শখ কি? অবসর সময়ে তিনি কিভাবে সময় কাটাতে পছন্দ করেন? যদি তাঁর বেশ কিছু ভালো শখ থেকে থাকে তাহলে সামনের দিকে এগিয়ে যান।

বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই মেয়েটিকেই সংসারের ম্যানেজার হতে হয়। তাই ম্যানেজার যদি ঠিকঠাক না হয়ে থাকে, তাহলে কিন্তু কোম্পানি টক্সিক কালচারের স্বীকার হয়ে থাকে। আর এর ফল টিমমেটদের ওপরেও পড়ে থাকে। সেইজন্য সংসার যদি সুস্থ আর শক্তিশালী করতে চান তাহলে ম্যানেজার কে সবার আগে ঠিকঠাক হতে হয়।

এর ব্যাতিক্রম ও হয়ে থাকে মানে কোন কোন সংসারে ছেলেটিই ম্যানেজার। সেক্ষেত্রে তারও উচিত সংসারের প্রতিটি সদস্যের ভালো চিন্তা করা। প্রতিটি সদস্যের কি দরকার, কি দরকার নেই, তাদের চরিত্রের সংশোধন করা যদি দরকার পড়ে- এইসব কিছুর খোঁজ নেওয়া, দায়িত্ত্ব নেওয়ার গুন কিন্তু একজন ম্যানেজার এর মধ্যে থাকা উচিত।

একটা দিনের প্রতিক্রিয়া দেখে কিছু বোঝা যায় না। তাই প্রত্যেকদিনের প্রতিক্রিয়া গুলো ডাইরি তে লিখে রাখুন। তারপর এভারেজ বিশ্লেষণ করুন। ওপরে উল্লেখ করা বৈশিষ্ট্যগুলো মিলছে কিনা দেখুন। একটা দিনের প্রতিক্রিয়া দেখে বিচার করবেন না যেন। কারন ওই একটা দিনে কারো মন কোন কারনে সমস্যার মধ্যে থাকতেই পারে।

কিভাবে পাত্র বা পাত্রী নির্বাচন করবেন – আশা করি পোস্টটি আপনাদের ভালই লেগেছে এবং আপনারা যারা পাত্র বা পাত্রী নির্বাচনের উপায় খুঁজছেন তারা নিশ্চয়ই এতে উপকৃত হবেন। যদি মনে হয় আমি কিছু পয়েন্ট উল্লেখ করতে ভুলে গেছি, প্লীজ কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করে জানাবেন। ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। চলুন সবাই মিলে এক সুন্দর পৃথিবী গড়ে তুলি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাম্প্রতিক পোস্ট