কি ছাড়া জীবন মূল্যহীন?

আজ আমরা এখানে “কি ছাড়া জীবন মূল্যহীন” সেই নিয়ে আলোচনা করবো। তবে আলোচনা করার আগে জানিয়ে রাখি-“ নানা মুনি নানা মত”। আমার মতে “কি ছাড়া জীবন মূল্যহীন” সেই কথাই তোমাদের বলবো। তোমাদের যদি অন্য কিছু কে মনে হয় যেটা ছাড়া জীবন মূল্যহীন, তাহলে প্লীজ তোমরা কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করে জানিয়ো। আমি সেইসব নিয়ে আরও কিছু পোস্ট লিখবো।

ভূমিকা

পরিস্থিতি অনুযায়ী চাওয়া পাওয়া নির্ভর করে। যে মানুষটা দিনে দুবেলা ভালো করে খাবার জোটাতে পারে না তার কাছে নিশ্চয়ই টাকা অর্জন ছাড়া জীবন মূল্যহীন। তোমরাও কি তাই মনে করো?

যে মানুষটার কাছে টাকা পয়সা ধন দৌলত সব আছে, কিন্তু প্যারালিসিস হয়ে বিছানাতে দীর্ঘদিন পড়ে আছে, তার কাছে ভালো স্বাস্থ্য ছাড়া জীবন মূল্যহীন।

যে মানুষটার কাছে টাকা পয়সা, বিশাল বড় বাড়ি, গাড়ী সব আছে কিন্তু ভালোবাসার কোন মানুষ নেই, সেই মানুষটা ভালোবাসার কাঙ্গাল। আর সেই মানুষটার কাছে নিশ্চয়ই মনে হবে ভালোবাসা ছাড়া জীবন মূল্যহীন।

এরকমটা কি তোমাদেরও মনে হয়? তাহলে দেখে নেওয়া যাক আসলে কোন জিনিষটা ছাড়া জীবন মূল্যহীন?

কি ছাড়া জীবন মূল্যহীন?

কি ছাড়া জীবন মূল্যহীন? একটা প্রশ্ন কিন্তু উত্তর অনেক। পরিস্থিতি অনুযায়ী উত্তর ভিন্ন। তবুও সব দিক বিচার করে বলবো যেটা সবার জন্য সত্যি সেটা হল আত্ম উপলব্ধি। আত্ম-উপলব্ধি ছাড়া জীবন মূল্যহীন বলেই আমার ধারনা। আত্ম-উপলব্ধি বা সচেতনতা ছাড়া কোন মানুষেই বুঝতে পারবে না যে কি ছাড়া জীবন মূল্যহীন। যে মানুষটা বলে চাকুরী ছাড়া জীবন মূল্যহীন, সেই মানুষটার কিছুটা আত্ম-উপলব্ধি হয়েছে বলেই আমার ধারনা।

আত্ম-উপলব্ধি ছাড়া মানুষ এটাও ঠিক করে বুঝতে পারে না যে সে আসলে কি চায়। তবে আত্ম-উপলব্ধির ও অনেক গুলো ধাপ আছে।

আচ্ছা একবার নিজেকে প্রশ্ন করে দেখো তো? শুধু ভালো খাবার খেয়ে বেঁচে থাকলেই কি জীবনে সুখ আসে? অনেকেই বলবে – আসে বই কি। ভালো খাবার, আর সুস্থ শরীর- এই দুটো পেলেই কি জীবন খুশী হয়ে যায়? যদি তাই হয়- তাহলে গ্রামের মানুষেরা বেশী খুশী, সুখী? সেক্ষেত্রে যে মানুষ গুলো দেশ কে রক্ষা করার জন্য নতুন নতুন অস্ত্র বানাচ্ছে, বা যে মানুষটা সমাজের মধ্যে এমপ্লয়মেন্ট বাড়ানোর কথা ভাবছে, নতুনত্ত্ব কিছু করতে গিয়ে বারে বারে ব্যর্থ হচ্ছে, এই সকল মানুষেরা কি কম সুখী?

হ্যাঁ, এরা অবশ্যই কম সুখী। তবে এই সকল মানুষেরা যখন তাদের টার্গেট পূরণ করে ফেলে, তখন তাড়া খুশীতে ভরপুর হয়ে যায়। তারপর সেখানেই থেমে থাকে না, আবার নতুন কিছু করার নেশায় মেতে ওঠে। আর এখানেই গ্রামের মানুষদের সাথে বা যে সকল মানুষ বেসিক জিনিষগুলো পেলেই সুখী হয়ে যায় তাদের সাথে এই সকল মানুষের পার্থক্য। পার্থক্য আত্ম- সচেতনতার। পার্থক্য আত্ম-উপলব্ধির।   

আত্ম-উপলব্ধির গুরুত্ত্ব কতখানি?

আত্ম-উপলব্ধি যত বাড়বে, ততই তুমি নিজের পরিবার কে দিতে পারবে, ততই তুমি সমাজের কথা ভাবতে পারবে । তুমি বুঝতে পারবে কর্মই ধর্ম। তুমি বুঝতে পারবে যে ঈশ্বরের বসবাস তোমার শরীরের মধ্যে। তোমার শরীর একটা মন্দির। সেই মন্দিরকে পবিত্র ও শুদ্ধ রাখার দায়িত্ত্ব তোমার।

কাজ না করেই যদি ভালো খাবার পেয়ে যাও, তাহলে তাতেই থেমে যেও না। যে প্রকৃতি বা যে পরিবার তোমাকে ফ্রি খাবার জুটিয়ে দিচ্ছে, সেই প্রকৃতি বা পরিবারকেও তোমার কিছু দেওয়া উচিৎ।আত্ম-উপলব্ধির মধ্যেই তুমি বুঝতে পারবে যে দেওয়া-নেওয়ার মধ্যে কি মাধুর্য।

আত্ম-উপলব্ধি যত বাড়বে তত তুমি সহনশীল হতে পারবে, অসীম ধৈর্য রাখতে শিখতে পারবে। আত্ম-উপলব্ধির কোন শেষ নেই, বা হয়তো বা আছে। কিন্তু যে ব্যক্তি আত্ম-উপলব্ধির সর্বচ্চো স্তরে উঠে যায়, সেই ব্যক্তির কাছে সবাই সমান, সেই ব্যক্তি কখনোই কাউকে ঘৃণার চোখে দেখে না। সেই ব্যক্তি বরং ভাবে বাকীদের কে কিভাবে সাহায্য করা যায়, কিভাবে তাদের আত্ম-সচেতনতা বাড়ানো যায়।

আর যেসব মানুষেরা ভাবে দুবেলা খাবার পেয়ে যাচ্ছি যখন, শুধু শুধু এতো পরিশ্রম করতে যাবো কেন- সেই সকল মানুষদের সচেতনতায় মরচে পড়েছে। যত তুমিবিভিন্ন রকমের বই পড়বে, বিভিন্ন ক্যাটাগরির মানুষদের সাথে মিশবে, ততই তোমার ভেতরে অনেক্ প্রশ্ন জাগবে, তোমার ভেতরে অনেক ক্ষুধা জাগবে। এই খিদেকে মরতে দিও না। এই খিদেকে বিশ্লেষণ করে সেই অনুযায়ী খাবার দিয়ে, সচেতনতার মরচে কে সরিয়ে দেও।

আর কি কি ছাড়া জীবন মূল্যহীন?

জীবন কি কোন একটি জিনিষ ছাড়া মূল্যহীন হতে পারে? যে মানুষটির কাছে ভালো খেয়ে সুস্থ শরীরে বেঁচে থাকাই জীবন, তাকে যদি জিগ্যেস কর-“ কি ছাড়া জীবন মূল্যহীন?” সেই মানুষটি হয়তো বলবে-“ খাবার ছাড়া জীবন মুল্যহীন”। আর যদি সেই মানুষটির খাবার ঠিক জুটে যায়, কিন্তু শরীর প্রায়ই খারাপ হয়ে যায়- সেই মানুষটি বলবে সুস্থ শরীর ছাড়া জীবন মূল্যহীন।

যদি কোন মানুষের খাবার হয়তো ঠিকঠাক জোটে না, কিন্তু তার আত্ম-উপলব্ধি অনেক বেশী, তাহলে সেই মানুষটি খাবার আর শরীরের দিকে পরোয়া না করে শুধু সমাজের কিভাবে উপকার করা যায় তাতেই মেতে ওঠে। অদ্ভুত ভাবে সমাজ বিনিময়ে তাকে সুস্থ শরীর আর পর্যাপ্ত পরিমানে খাবার দিয়ে থাকে। সমাজ যখন কোন মানুষের থেকে অনেক কিছু পেয়ে যায়, সমাজ সেই ঋণের বোঝা নিজের কাঁধে বেশিদিন রাখে না, খুব শীঘ্রই সেই মানুষটিকে প্রচুর দেওয়া শুরু করে।   

আত্ম- উপলব্ধি বা আত্ম-সচেতনতা ছাড়া জীবন সত্যিই মূল্যহীন। আত্ম-সচেতনতা ছাড়া জীবন যেন থমকে যাওয়া জীবন, গতিহীন জীবন। আত্ম-সচেতনতাই জীবনে গতি এনে দেয়। আর গতিহীন জীবন তো মৃত সমান।

যার মধ্যে আত্মসচেতনতা থাকবে, সে নিজেই নিজের লক্ষ্য খুঁজে নেবে। প্রতিটি মানুষের জীবনেই লক্ষ্য থাকা উচিৎ। যদি তুমি ভাবো যে খাবার ছাড়া জীবন মূল্যহীন, তোমার লক্ষ্য শুধু খাবারেই সীমাবদ্ধ থাকবে। কিন্তু যখন তুমি ভাববে জীবনে সমাজের জন্য বড় কিছু করতে না পারলে জীবন মূল্যহীন, তখন ছোটোখাটো চাহিদাগুলো জীবন তোমাকে ফ্রি গিফট হিসেবে এমনিই মিটিয়ে দেবে। তাই কোন বড় লক্ষ্য ছাড়া জীবন মূল্যহীন- এটাই মনের মধ্যে যখন গেঁথে নেবে, তখন জীবন তোমাকে পথও দেখিয়ে দেবে।

এবার এই আত্ম- সচেতনতা বাড়াবে কি করে , আএই আত্ম- সচেতনতা বাড়ানো কি আমাদের হাতে আছে? এইসব কিছু নিয়ে অন্য কোন একদিন আলোচনা করবো।

উপসংহার

তুমি যদি দশজন কে জিগ্যেস করো যে “ কি ছাড়া জীবন মূল্যহীন”, তাহলে তুমি দশরকমের উত্তর পাবে। কেউ বলবে –খাবার ছাড়া জীবন মূল্যহীন, কেউ বলবে- অর্থ ছাড়া জীবন মূল্যহীন। এমন কি কারো কাছে থেকে এটাও উত্তর পেতে পারো যে “নেশা ছাড়া জীবন মূল্যহীন”। পরিস্থিতি অনুযায়ী বিভিন্ন মানুষের বিভিন্ন উত্তর। তবে ঐ সকল মানুষেরা যে পরিস্থিতে আছে,সেই পরিস্থিতিতে আমরা থাকলে হয়তো তাই বলতাম।

কিন্তু তাও সবশেষে এটাই বলবো যে আত্ম-উপলব্ধি ছাড়া জীবন মূল্যহীন। আত্ম-উপলব্ধি যখন বেশী হবে তখন জীবন তোমার যা যা প্রয়োজন সেই সব কিছু তোমাকে গিফট হিসেবে এমনিই জোগান দেবে। জীবন চাইবে যাতে তুমি তোমার ঐ বড় লক্ষ্য পূরণ করতে পারো। পুরো ইউনিভার্স তোমাকে সাহায্য করবে। কিন্তু যখন তুমি ভাববে খাবার ছাড়া জীবন মূল্যহীন, তখন ইউনিভার্স তোমাকে খাবার ছাড়া আর কিছুই দেবে না, যদি না তুমি চাও।  

বাড়িয়ে তোল আত্ম-সচেতনতা কে। ইউনিভার্স তোমাকে ঢেলে দিতে থাকবে তুমি যা চাইবে। মনের মধ্যে গেঁথে নিও-“ আত্ম-সচেতনতা ছাড়া জীবন মূল্যহীন”।   

আশা করি তোমরা বুঝতে পেরেছ কি ছাড়া জীবন মূল্যহীন। তোমাদের যদি মনে হয় আরও অন্য কিছু ছাড়া জীবন মূল্যহীন, প্লীজ কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করে জানিও। আমার সেরকম মনে হলে আমি এই পোষ্টটিকে আপডেট করে নেবো, তোমাদের নাম উল্লেখ করে। সুস্থ থাকো, ভালো থাকো, সবাইকে ভালো রাখো। চলো, সবাই মিলে একসাথে এক সুন্দর পৃথিবী গড়ে তুলি। এই পৃথিবীর প্রতিটি কোনা ভরে উঠুক ঈশ্বরের আশীর্বাদে!  

2 thoughts on “কি ছাড়া জীবন মূল্যহীন?

  1. “কিন্তু যখন তুমি ভাববে জীবনে সমাজের জন্য বড় কিছু করতে না পারলে জীবন মূল্যহীন, তখন ছোটোখাটো চাহিদাগুলো জীবন তোমাকে ফ্রি গিফট হিসেবে এমনিই মিটিয়ে দেবে। তাই কোন বড় লক্ষ্য ছাড়া জীবন মূল্যহীন- এটাই মনের মধ্যে যখন গেঁথে নেবে, তখন জীবন তোমাকে পথও দেখিয়ে দেবে।“ Self-Actualisation is the highest motivating factor as per Maslow’s law!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাম্প্রতিক পোস্ট