গনিত শেখার সহজ উপায় কি?

কিউ ম্যাথ – গনিত টিউশেন

আপনার বাচ্চা কি গনিতে খুবই দুর্বল? আপনি কি এই নিয়ে টেনশেন এ আছেন? অনেক টিউশেন দিয়েছেন, আর তাতেও কোন লাভ হয় নি? কিন্তু কেমন হয় যদি এমন কোন টিউশেন এর কথা জানতে পারেন যেখানে খুব সহজ আর সুন্দরভাবে গনিত শেখানো হয়?

এইসব সমস্যার কথা ভেবেই তো মিঃ মানন খুর্মা নিয়ে এসেছেন “কিউম্যাথ” যা একটি গনিত টিউশেন।

কিউম্যাথ এর প্রতিষ্ঠাতা মিঃ মানন খুর্মা একজন ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ার। উনি B.Tech করেছেন IIT,Delhi থেকে। উনি ২০০৭ সালে “লোকাস এডুকেশেন” নামে একটি গনিত সংস্থা তৈরি করেছিলেন যেখানে উনি ১০,০০০ এর চেয়েও বেশী ছাত্র ছাত্রীকে IIT-JEE exam এর জন্য তৈরি করিয়েছিলেন।

২০১৩ সালে উনি ‘কিউম্যাথ’ নামে একটি গনিত সংস্থা তৈরি করেন। উনার প্রধান শখ বাচ্চাদের গনিতে পারদর্শী করা। উনি সেইভাবেই সংস্থাটিকে তৈরি করেন।

কিউম্যাথ একটি গনিতের কোচিং ক্লাস। এটি একটি প্রাইভেট টিউশেন এর মতো যেখানে কেজি লেভেল থেকে ক্লাস টেন অবধি শুধু অঙ্ক শেখান হয়। বর্তমানে করোনার জন্য সব ক্লাসই অনলাইনে পড়া হয়। সুতরাং ছাত্রছাত্রীদের লোকেশেন এখানে কোন সমস্যাই নয়।

কিউম্যাথ টিচার এবং কিউম্যাথ ব্রাঞ্চঃ

এই কিউম্যাথ এ প্রায় ৫০০০ এর ওপর টিচার আছেন। আর প্রায় ৪০,০০০ এর ওপর ছাত্রছাত্রী আছে। সারা দেশ জুড়ে কিউম্যাথ এর টিচার আছেন। এখন সব ক্লাস অনলাইন এ হওয়াতে, আপনি আপনার বাচ্চাকে আপনার পাছন্দমতো যে কোন টিচার এর কাছে দিতে পারেন। 

আপনি ইন্টারনেট এ সার্চ করে কিউম্যাথ টিচারদের প্রোফাইল দেখে টিচার পছন্দ করতে পারেন। এরপর আপনি হয়তো ভাবছেন যেখানে Byju, You-Tube এ এতো ফ্রি ভিডিও পাওয়া যায়, সেখানে কিউম্যাথ এ কেন যোগদান করবেন।

বাচ্চাদের কেন কিউ ম্যাথ এ জয়েন করা উচিৎ?

নীচের এই ১৫ টি কারনের জন্য বাচ্চাদের কিউ ম্যাথ এ জয়েন করা উচিৎঃ

১. ওয়ার্কশীট এর কোয়ালিটি

ওয়ার্কশীট গুলো খুব সুন্দরভাবে ডিজাইন করা হয়েছে, সব ছাত্র ছাত্রীদের কথা ভেবেই করা হয়েছে। যেমন ধরুন- একজন ছাত্র সবে ক্লাস টু তে উঠেছে, ক্লাস টু তে ডিভিজেন শেখানো হয়। ওয়ার্কশীট গুলোতে ডিভিজেন এর প্রব্লেমগুলো একদম বেসিক লেভেল থেকে দেওয়া হয়েছে, ডিভিজেন এর উৎস যেখান থেকে।

কিছু দিন পরে, ওই ছাত্রটি যখন ডিভিজেন এর বেসিকে পারদর্শী হয়ে উঠবে, তখন সে আরও কিছু ওয়ার্কশীট পাবে যেগুলো একটুখানি জটিল। শেষের দিকের ওয়ার্কশীটগুলো খুবই জটিল। জটিল হলেও প্রতিটি ধরন থেকে একটি করে প্রবলেম কিভাবে সমাধান করতে হয় তা ডিটেল এ দেখানো থাকে।

সিলেবাস
ওয়ার্কশীট

২। সিলেবাস

ICSE এবং CBSE এই দুটো বোর্ড এর সিলেবাস এ যে যে চ্যাপ্টার আছে সেইসব চ্যাপ্টারগুলো থেকে এক একটি ছোট বই আছে। যেমন ধরুন, একটি চ্যাপ্টার এর নাম- মাল্টিপ্লিকেশেন। মাল্টিপ্লিকেশেন নামে একটি বই থাকবে। সেই বইটির মধ্যে ১০-১৫ টি ওয়ার্কশীট থাকবে।

প্রথম ওয়ার্কশীটগুলো খুবই সহজ, যা বেসিক এবং কনসেপ্ট এর ওপর নির্ভর করে ডিজাইন করা হয়। শেষের ওয়ার্কশীটগুলো কম্পিটেটিভ পরীক্ষার ধাঁচে তৈরি করা হয়।

বর্তমানে এইসব বইগুলো অনলাইন এ পাওয়া যায়।

৩। ওয়ার্ক শিট এর সঙ্খ্যা

কোন ক্লাসে ১০ টি চ্যাপ্টার থাকলে, ১০ টি অনলাইন বুক থাকবে। আর প্রতিটি বুকের মধ্যে ১০-১৫ টি ওয়ার্কশীট থাকবে।  তাহলে এক একটি ক্লাসে ১০০ থেকে ১৫০ টি ওয়ার্কশীট থাকে।

৪। ম্যাথ জিম

ম্যাথ জিম একটি ম্যান্টল ম্যাথ এর অ্যাপ যেটি “playstore” থেকে ইন্সটল করতে হয়। এই অ্যাপটিতে প্রতিটি ক্লাসের সিলেবাস এর ওপর নির্ভর করে প্রশ্নগুলো তৈরি করা হয়। তবে কিউম্যাথ এ এনরোল না করেও এই অ্যাপটি ব্যবহার করা যায়।

আপনি অ্যাপটি ইন্সটল করে আপনার বাচ্চাকে প্রত্যহ ম্যাথ জিম করতে বলুন। তাহলে কিউম্যাথ সম্পর্কে আপনার কিছু ধারনা হবে।  

 ৫। ট্যাব ব্যবহার

অফলাইন ক্লাসে ট্যাব এ নানান রকমের অ্যাপ্টিটুড এবং রিজনিং প্রশ্ন থাকে যা নিয়মিত প্র্যাকটিস করলে বাচ্চাদের বুদ্ধি বাড়ে। আর এইসব প্রশ্ন স্কুলের সিলেবাস এর ওপর নির্ভর করেই তৈরি করা হয়।

৬। পাযল কার্ড

টোটাল ৫০০ টির ও বেশী পাজল কার্ড আছে। ক্লাস এবং পারফরমেন্স অনুযায়ী ছাত্রছাত্রীদের পাজল কার্ড দেওয়া হয়। প্রথমদিকে সহজ সহজ পাজল কার্ড দেওয়া হয় আর ধীরে ধীরে জটীল পাজল কার্ড গুলো দেওয়া হয়।

৭। কিউম্যাথ টিচার

দেশের সব রাজ্যেই কিউম্যাথ এর শাখা ছড়িয়ে আছে। আপনি যদি মুম্বাই এ থাকেন, আপনি সেখানেও প্রচুর কিউম্যাথ টিচার পেয়ে যাবেন। আপনার নিকটবর্তী কিউম্যাথ টিচার এর সাথে যোগাযোগ করতে চাইলে “Cuemath Teacher near me” দিয়ে google এ সার্চ করুন। 

৮। গাইড্যান্স

বোঝানোর সহজ উপায়
ম্যাথ বক্স

অনলাইন ক্লাস করার সময়ে টিচার সারাক্ষন বর্তমান থাকেন। ছাত্রছাত্রীরা কিছু ভুল করলে তা টিচারদের কাছে ডিসপ্লে হয়। তখন টিচার তাকে কল করেন। এখানে কিউম্যাথ অ্যাপ এ হয়াইট বোর্ড এর ফেসিলিটিও আছে। ছাত্রছাত্রীরা আর টিচার সকলেই তা দেখতে পেয়ে থাকে।

এই হয়াইট বোর্ড এ টিচার বোঝাতে থাকেন। ছাত্রছাত্রীরাও তাদের প্রশ্ন / ডাউট এই হয়াইট বোর্ড এ লিখে টিচারদের জানাতে পারে।

এই কিউম্যাথ অ্যাপ এ ভিডিও বা অডিও কল করার ফ্যাসিলিটিও আছে। এর ফলে ছাত্রছাত্রীরা ভালো গাইড্যান্স পেয়ে থাকে।

৯। অলিম্পিয়াড এক্সাম

প্রতি বছর কিউম্যাথ অলিম্পিয়াড এক্সাম অরগেনাইজ করে থাকে। বেশ ভালো ভালো আকর্ষণীয় পুরস্কার দেওয়া হয় যারা প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় স্থান অধিকার করে থাকে। আর বাকিদের যারা এই এক্সাম টিতে অংশগ্রহণ করে তাদের সার্টিফিকেট দেওয়া হয়।

যেসব ছাত্রছাত্রীরা কিউম্যাথ এ ভর্তি হয় নি, তারাও এই পরীক্ষায় বসতে পারে। তবে যারা কিউম্যাথে ভর্তি হয়েছে, তারা এই অলিম্পিয়াড পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য কিউম্যাথ থেকে একটি করে প্রাকটিস ওয়ার্কবুক পেয়ে থাকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে।

অলিম্পিয়াড
কিউম্যাথ অলিম্পিয়াড

১০। ইনভেস্টমেন্ট

কিউম্যাথ এমন একটি অরগেনাইজেসেন যেখানে টাকা খরচ করলে আপনার গায়ে লাগবে না কারন আপনি ক্রমশই বুঝতে পারবেন যে এই কিউম্যাথ এ টাকা খরচ করে আপনি লাভবান হয়েছেন। আপনি দেখতে পাবেন যে আপনার বাচ্চা অঙ্কে পারদর্শী হয়ে উঠছে । আর একবার পারদর্শী হয়ে গেলে, তা সারা জীবনের অ্যাসেট হয়ে থাকবে।

১১। গনিতের প্রতি ভালবাসা

কিউম্যাথ এ পড়ানোর স্টাইল অন্য গনিত টিউশেনগুলোর চেয়ে আলাদা। এখানে প্রায়ই নানান ধরনের ইভেন্ট হয়ে থাকে। আর এই ইভেন্টগুলোতে অঙ্কের প্রশ্নই থাকে। যারাই অংশগ্রহণ করে তারাই সার্টিফিকেট পেয়ে থাকে। এই ইভেন্টগুলো খুব মজাদার হয়ে থাকে। এর ফলে ছাত্র ছাত্রীদের গনিতের প্রতি ভালোবাসা বেড়ে যায়।

১২। ব্যাচ এর সাইজ

সাধারণত, অন্য সব কোচিং সেন্টার এ ২০ থেকে ৩০ জনকে একসাথে পড়ানো হয়। কিন্তু কিউম্যাথে ক্লাস অনলাইন বা অফলাইন যাই হোক না কেন, এখানে একসাথে ৬ জনের বেশীজনকে পড়ানো হয় না। এর ফলে ছাত্র ছাত্রীরা খুব ভালো গাইড্যান্স পেয়ে থাকে। 

১৩। ফ্লেক্সিবিলিটি

প্রতি সপ্তাহে কিউম্যাথ টিচার ছাত্রছাত্রীদের সাথে আলোচনা করে পড়ানোর সময় ঠিক করে থাকে। সপ্তাহে তিন ঘন্টা পড়ানো হয়। কোন কোন টিচার সপ্তাহে তিনদিন এক ঘন্টা করে পড়ান। আবার কোন কোন টিচার সপ্তাহে দুদিন ১.৫ ঘণ্টা করে পড়ান।

১৪। কি এর আগে কেন

কিউম্যাথ সবসময় ‘কি’ এর আগে ‘কেন’ কে বেশী গুরুত্ব দিয়ে থাকে। যে কোন ফরমুলা ব্যবহারের আগে কিউম্যাথ ছাত্রছাত্রীদের এটাই শেখায় যে ওই ফরমুলাটি কিভাবে তৈরি হয়েছে, কেন ওই ফর্মুলাটি ব্যবহার হবে? এর ফলে ছাত্র ছাত্রীদের বেশী মনে থাকে, আর যে কোন প্রবলেম তারা বুঝে বুঝে সল্ভ করতে পারে।

১৫। ইভেন্টস

কিউম্যাথে প্রায়ই নানান রকমের নতুন নতুন ইভেন্টস হয়ে থাকে যেমন ধরুন- কিউম্যাথ ওয়ার্ল্ড কাপ, স্নেক্স অ্যান্ড লেডারস, অনলাইন ম্যাথ এডভেঞ্চার, কিউম্যাথ অনলাইন কুইজ, ম্যাথ অফ কোভিড ১৯, দি এক্স ফ্যাক্টর ইন ম্যাথ অফ কোভিড ১৯, ইত্যাদি।

এইসব ইভেন্টগুলোর কোশ্চেন ক্লাসের সিলেবাস অনুযায়ীই করা হয়। এইসব ইভেন্টে শুধু কিউম্যাথের ছাত্র ছাত্রীরাই নয়, অন্যরাও অংশগ্রহণ করতে পারে। ছাত্র ছাত্রীদের মধ্যে এতে আগ্রহ বাড়ে।

কিউম্যাথ এ ওয়ার্কশীট এর কোয়ালিটি, সময় এর ফ্লেক্সিবিলিটি, টিচার এর প্রেজেন্স এবং নানান ধরনের ইভেন্ট কিউম্যাথ কে আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

আপনার বাচ্চা কিউম্যাথে এনরোল না করেও এই ইভেন্ট গুলোতে অংশগ্রহণ করতে পারে। এর ফলে আপনারও কিউম্যাথ সম্পর্কে কিছু ধারনা হবে। আপনি বুঝতে পারবেন যে প্রশ্নপত্রগুলো খুব ইন্টেলিজেন্ট ওয়েতে ডিজাইন করা হয়েছে। আপনিও ভালোবেসে ফেলবেন এই ওয়েটিকে যে ওয়েতে কিউম্যাথ পড়িয়ে থাকে।

যে ওয়েতে কিউম্যাথ গনিত শেখায়, অন্য কোন গনিত টিউশেন সেই ওয়েতে শেখাতে পারে না বলেই আমার বিশ্বাস। আপনি যদি বিশ্বাস করতে না পারছেন, তাহলে কিছু ইভেন্ট এ আপনার বাচ্চাকে অংশগ্রহণ করতে বলুন। এখানে ২ টো ফ্রি ক্লাসও দেওয়া হয়। মাত্র কয়েকদিনেই আপনি পার্থক্যটা বুঝতে পারবেন।

তাই আর দেরি না করে আজই আপনার নিকটবর্তী টিচার সেলেক্ট করে ফেলুন। আর ক্লিক করুন নীচের লিঙ্কটিতে-

https://www.cuemath.com/

এই ব্যাপারে কিছু জিজ্ঞাস্য থাকলে, কমেন্ট বক্সে লিখে জানান।

সুস্থ থাকুন, ভালো থাকুন, সবাইকে ভালো রাখুন। চলুন, সবাই মিলে একসাথে এক সুন্দর পৃথিবী গড়ে তুলি। এই পৃথিবীর প্রতিটি কোনা ভরে উঠুক ঈশ্বরের আশীর্বাদে!  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাম্প্রতিক পোস্ট