চাকরির ইন্টারভিউ দেওয়ার কৌশল

ইন্টারভিউ দেওয়ার কৌশল

পুরানো চাকরি ভালো লাগছে না? চাকরি বদলানোর কথা ভাবছেন? নাকি গ্রাজুয়েট কমপ্লিট, আর তাই চাকরি খুঁজছেন? চাকরি খোঁজা মানেই তো ইন্টারভিউ এর মুখোমুখি হওয়া। এক নতুন পরিবেশে, নতুন ইন্টারভিউয়ারদের গুচ্ছ প্রশ্নের উত্তর দেওয়া! চাকরির ইন্টারভিউ দেওয়ার কৌশল গুলো জানা থাকলে টেনশন যাবে কমে।

চাকরির ইন্টারভিউ এর জন্য এখনো অনেক সময় হাতে? আর সেইজন্যই কি আপনার মনে হচ্ছে আপনি খুব ভালভাবেই তৈরি আছেন?

কিন্তু যেদিন দেখেন আর মাত্র দুদিন পরেই ইন্টারভিউ, সেদিন থেকেই কি আপনার হার্ট বিট বেড়ে যায়? তখন আর ভেবে পান না কিভাবে শেষ মুহূর্তের প্রিপারেশেন টা নেবেন। এই ইন্টারভিউ এর নাম শুনলেই কম বেশী সবারেই টেনশেন হয়। 

আশা রাখছি এই পোস্টটিতে আমরা আপনাদের ইন্টারভিউ দেওয়ার কৌশল সম্পর্কে অবগত করতে পারবো। তাই পড়তে থাকুন  ইন্টারভিউ এর আগে, পরে, এবং ইন্টারভিউ এর সময়ে কি কি করা উচিৎ আর কি কি বলা বা করা উচিৎ নয়।

চাকরির ইন্টারভিউ দেওয়ার কৌশল- ইন্টারভিউ এর আগে কি করা উচিৎ

১। চাকরির প্রয়োজনীয়তা তৈরি করুন

শুনেছেন নিশ্চয় ঠেলায় না পড়লে বিড়াল গাছে চড়ে না। ঠিক সেইরকম ভাবেই, আপনার জীবনে চাকরির দরকার না থাকলে, চাকরি পাওয়া মুশকিল আছে। তাই সবার প্রথমে আপনাকে খুঁজে বার করতে হবে চাকরির কি দরকার।

চাকরির প্রয়োজনীয়তা কে সুদৃঢ় করতে হবে। বাড়ী তৈরির সময় যেমন ইটগুলো শক্তপোক্ত না হলে বাড়ীটা মজবুত হয় না, ঠিক তেমনি চাকরির প্রয়োজনীয়তা দৃঢ় না হলে চাকরি পাওয়া যায় না, ভবিষ্যতের ভীত মজবুত হয় না।

কিংবা আপনার কি চাকরি খুবই প্রয়োজন? আপনি কি অস্থিরতা অনুভব করছেন, এমন এক অস্থিরতা যা আপনাকে নিশ্চিন্তে রাত্রে ঘুমোতে দেয় না? চাকরি না পেলে আপনার চলবেই না?

আরেকধরনের মানুষের উদ্দ্যেশ্যেঃ

আপনি কি ভাবছেন? এই মুহূর্তে চাকরি খুব একটা প্রয়োজন নেই? বাবার ব্যবসাতে দিব্যি চলে যাচ্ছে? বাবা মাও তেমন একটা কিছু বলেন না?

এই দ্বিতীয় শ্রেণীর ক্যাটাগরি তে যারা যারা পড়েন, তাদের উদ্দ্যেশ্যে বলবো- দায়িত্ব নিন,পরিবারের দায়িত্ব নিন। দায়িত্ব নিন আপনার চারপাশের। চারপাশটা দেখুন, আপনার মতো ভালো অবস্থা হয়তো অনেকেরই নেই। তাদের পাশে দাঁড়ান।

তাই ব্যবসা ভালো লাগলে, ঠিক আছে। ভালো না লাগলে, চাকরি খুঁজুন। আপনার আশপাশটাকে ভালো করার উদ্দ্যেশ্যে চাকরি খুঁজুন।

প্রথম শ্রেণীর মানুষেরা যারা চাকরি না পাওয়ায় ঘুমোতে পারে না,, তারা সহজেই চাকরি পেয়ে যাবেন শুধু এখানে উল্লেখ করা টিপসগুলো ফলো করবেন।

আরেক ধরনের মানুষ আছে যাদের পরিবারে চাকরির প্রয়োজনীয়তা খুবই আছে। কিন্তু সেই প্রয়োজনীয়তার জোর সেই মানুষগুলোর হৃদয়ে পৌছায় না। এর ফলে, তারা সেই প্রয়োজনীয়তার তাগিদ অনুভব করে না।

এই তৃতীয় শ্রেণীর মানুষের সংখ্যাটা বেশী। তাদের মধ্যে আত্ম-সচেতনতার অভাব। তাদের উদ্দ্যেশ্যে বলবো- উঠুন,জাগুন। চোখ দুটোকে খুলে দেখুন, মন থেকে দেখুন, আপনার পরিবারকে দেখুন। তাদের মুখে হাসি ফোটাতে আপনি আজ এই মুহূর্তে থকে অন্য ভাবনা দূরে সরিয়ে শুধু চাকরির প্রয়োজনীয়তাকে মনে গেঁথে নিন।

২। জীবনে লক্ষ্য তৈরি করুন

কি রকমের কাজ আপনার পছন্দ- তা কি মনের সাথে একান্তে কথা বলে জেনে নিয়েছেন? আর যদি না জানেন, তাহলে আত্ম-বিশ্লেষণ করুন। কোন সাবজেক্ট পড়তে ভালো লাগে? পড়াশুনো নিয়ে থাকতে কি ভালো লাগে? তাহলে টিচিং লাইনে যান।

পড়াশুনো একদম পছন্দ নয়? শুধু ভাবতে থাকেন কবে এই পড়াশুনো থেকে মুক্তি পাবেন? তাহলে কি ভালো লাগে সেইসবের দিকে ধ্যান দিন। মানুষের শরীরের মধ্যে যে বিজ্ঞান আপনার চোখের সামনে দণ্ডায়মান, সেই বিজ্ঞানকে নিয়ে নাড়াচাড়া করতে ভালো লাগে? তাহলে ডাক্তার হওয়ার চেষ্টা করুন।

মেশিন দেখলেই কি সব খুলে, নিজেই সারাবার চেষ্টা করেন? এমন কি মুবাইল থেকে শুরু করে গাড়ি অবধি সব নিজেই সারান? তাহলে ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার চেষ্টা করুন।

এইভাবে জীবনে চাকরির প্রয়োজনীয়তা তৈরি করে নেওয়ার পর, জীবনে লক্ষ্য তৈরি করুন। আপনি কোন লাইনে চাকরি করতে চান তা ফিক্স করুন। সবার প্রথমে ঠিক করুন- চাকরি নাকি ব্যবসা কি করবেন। চাকরি নাকি ব্যবসা কোনটা ভালো হবে জানতে নিচের এই লিঙ্কটিতে ক্লিক করুন।

https://bengalimotivation.com/%e0%a6%9a%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a6%b0%e0%a6%bf-%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a6%bf-%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%ac%e0%a6%b8%e0%a6%be/
চাকরি নাকি ব্যবসা

  ৩। প্রিপারেশেন নিন

আপনাকে চাকরি পেতেই হবে- এটা নিশ্চয় জেনে গেছেন। তাহলে এবারে প্রিপারেশেন নিন। এমনভাবে পড়াশুনো করবেন যেন কালই আপনার ইন্টারভিউ, যদিও এখনো ইন্টারভিউ কলই আসে নি।

এমনভাবে প্রেপারেশেন নিন যেন টেকনিক্যালি আপনি ১০০ এর ১০০ পান, সে লিখিত পরীক্ষাই হোক বা অর‍্যালই হোক না কেন। ধরে নিন –যে কোন দিন আপনার ইন্টারভিউ কল আসতে পারে।

প্রিপারেশেন এর সাথে সাথে চাকরির খবরগুলোর দিকে নজর দিন। আর এপ্লায় করতে থাকুন।

৪। ফাইনাল ইন্টারভিউ এর আগে নিজেই নিজের ইন্টারভিউ নিন

বাড়ীতে যদি কেউ থেকে থাকে যে আপনার ইন্টারভিউ নিতে পারবে, তাহলে তাকে বলুন – আপনার ইন্টারভিউ নিতে। সেক্ষেত্রে আপনি বুঝতে পারবেন যে আপনি কতটা তৈরি আছেন ফাইনাল ইন্টারভিউ এর জন্য।

ফাইনাল খেলার আগে,খেলোয়াডদের কতবার খেলতে হয়! ঠিক তেমনভাবেই, ফাইনাল ইন্টারভিউ এর আগে, আপনি নিজে ইন্টারভিউ দেওয়ার অভ্যেস গড়ে তুলুন।

বাড়ীতে কেউ না থাকলে, আপনি নিজেই নিজের ইন্টারভিউ নিন।

৫। ভালো ঘুম

শুধুই কি ভালো ইন্টারভিউ এর জন্য প্রত্যহ ভালো ঘুমের প্রয়োজন? আপনার নিজের মধ্যে যে শক্তি বিরাজমান তাকে জাগিয়ে তোলার জন্য আপনার ভালো ঘুমের প্রয়োজন। তবে অত্যধিক ঘুমও ভালো না।

৬। ভালো আহার

যেমন ইনপুট দেবেন, তেমনই তো আউটপুট পাবেন। আহার হল আমাদের শরীর ও মনের ইনপুট। ভালো আহারে শরীর বলশালী হয় আর মানসিক শক্তি বাড়ে।

আপনার শরীর আর মন ঠিক না থাকলে আপনি আর কোন কাজেই করতে পারবেন না। তাই শরীর আর মন কে সতেজ রাখতে পুষ্টিকর খাবার খান।

৭। ব্যায়াম করুন

প্রত্যহ সম্ভব যদি না হয়, অন্ততপক্ষে সপ্তাহে ৩-৪ দিন ব্যায়াম করুন। কিছু কিছু ব্যায়াম করতে গাইডের প্রয়োজন হয় না, সেইসব ব্যায়ামগুলো করুন। আপনি ইউটিউব এ দেখতেও পারেন নানান রকমের ব্যায়াম। যেগুলো আপনার সহজ লাগবে সেই গুলোই করুন।

৮। মেডিটেশেন করুন

মেডিটেশেন আপনার একাগ্রতা বাড়িয়ে তুলবে, আপনার চারপাশে দুঃখ কষ্ট থাকলেও,তা আপনার শরীর আর মনকে প্রভাবিত করতে পারবে না।

মনে করুন, আপনার চারপাশে প্রচুর ধোঁয়া, ধুলো। কিন্তু আপনি মাস্ক পরে আছেন। তাহলে কি সেই ধোঁয়া, ধুলো বালি আপনার ফুস্ফুস অবধি পৌঁছাবে? আপনি ধুলোর গন্ধ হয়তো পাবেন, ধোঁয়ার উপস্থিতিও টের পাবেন। কিন্তু তা সত্বেও আপনি নিজে সুরক্ষিত থাকবেন।

মেডিটেশেন আমাদের মনের মাস্ক এর কাজ করে থাকে। তাই নিয়মিত ৫ মিনিটের জন্য হলেও মেডিটেশেন করুন।

৯। আত্মবিশ্বাস রাখুন

আত্মবিশ্বাস আর আশা এই দুটোই যদি খুব জোরালো হয় আর তার সাথে পরিশ্রমও যদি থাকে, কারো ক্ষমতা নেই আপনাকে আপনার স্বপ্ন পূরণ থেকে আটকাতে।

প্রবল আত্মবিশ্বাসে সামনের দিকে এগিয়ে যান।

প্রত্যহ এই কথাগুলো বলুন-

  • আমি পারবো, আমাকে পারতেই হবে। এছাড়া আর কোন উপায়েই নেই।
  • প্রতিটি প্রশ্নের সঠিক উত্তর আমি দেবোই।
  • আমার সাথে আমি আছি। ভয় কিসের?
  • ইয়ে! আমি চাকরি পেয়ে গেছি। আমার স্বপ্ন পূরণ হয়ে গেছে- মনে মনে বলুন আর ভাবুন যে সত্যিই আপনার চাকরি হয়ে গেছে।
  • আমি পড়বো, আমাকে আরও পড়তে হবে। আমি পড়তে ভালবাসি – না ভালবাসলেও এইসব কথাগুলো রোজ বলুন।

ইন্টারভিউ এর জাস্ট কিছুদিন আগে কি করা উচিৎ

  • আপনার বায়ো-ডাটা আপডেট করুন।
  • চাকরির খোঁজ খবর রাখুন।
  • প্রোফাইল ম্যাচ করে গেলে আপনি এপ্লায় করা শুরু করুন।
  • পড়াশুনোও চালিয়ে যান।
  • ফাইল ব্যবহার করুন – দরকারি কাগজপত্র যেমন ধরুন সব একাডেমিক সার্টিফিকেটগুলো,মার্কশিট  গুলো ওই ফাইলে গুছিয়ে রাখুন।

চাকরির ইন্টারভিউ দেওয়ার কৌশল

ইন্টারভিউ এর সময়ে কি করা উচিৎ

  • প্রথমেই ইন্টারভিউয়ার কে উইশ করুন।
  •  বডি ল্যাঙ্গুয়েজ ঠিক রাখুন। ইন্টারভিউ প্যানেলে বসে  হাত, পা, বা মাথা চুলকাবেন না। পায়ের ওপর পা তুলে বসবেন না।
  • কথা বলার স্বর ও নম্রতা বজায় রাখুন।
  • ধির,স্থির মস্তিষ্কে প্রতিটি প্রশ্নের জবাব দিন।
  • ইন্টারভিউ প্যানেলে ঢোকার ঠিক আগে জল খেয়ে নিন, যাতে গলা না শুকিয়ে যায়।
  • সবসময় হাতের কাছে দুটো কলম (পেন) রাখবেন। ডট পেন রাখবেন।
  • ভালো পারফিউম লাগিয়ে ইন্টারভিউ দিতে যাবেন।
  • ছেলেদের ক্ষেত্রে, শেভিং করে ইন্টারভিউ দিতে যাবেন।
  • টয়লেট করে একদম রেডি হয়ে ইন্টারভিউ দিতে যাবেন।

ইন্টারভিউ এর সময়ে কি কি করা উচিৎ নয়

কিছু সাধারন জিনিষ আছে যা ইন্টারভিউয়ার এর সামনে বলা উচিৎ নয়। এমনই কিছু জিনিষ এখানে তুলে ধরবো-

  • আগ বাড়িয়ে বেশী কথা বলার অভ্যেস দূর করুন।
  • সরি, আমার দেরি হয়ে গেছে- এটা বলতে যেন আপনাকে না হয়। চেষ্টা করুন দেরী না করার। হাতে কিছু এক্সট্রা সময় নিয়ে বাড়ী থেকে বেরোন।
  • ইন্টারভিউয়ার এর সামনে ইন্টারভিউ প্যানেলে সময় জিগ্যেস করবেন না।
  • আপনার মুবাইল ফোনটি সাইলেন্ট করে ইন্টারভিউয়ার এর সামনে যান। কিংবা কিছুক্ষণের জন্য সুইচ অফ করে দিন। সুইচ অফ করাটাই বেস্ট হবে।
  • ছুটির কথা মানে বছরে কতোগুলো ছুটি পাওয়া যায়- এই সম্পর্কে কিছু জানতে চাইবেন না।
  • আপনি কি কি সুবিধা পাবেন এই নিয়ে মেন ইন্টারভিউ এ জিগ্যেস করবেন না। এইসবের জন্য কোন কোন কোম্পানি তে আলাদা করে এইচ আর ইন্টারভিউ হয়। সেখানে আপনি জিগ্যেস করতে পারেন এক্সট্রা সুবিধাগুলোর ব্যাপারে। তবে ইন্টারভিউয়ার জিগ্যেস করার পরে আপনি ওইসব নিয়ে জানতে চাইবেন, তার আগে নয়।
  • আপনি ওই কোম্পানিতে কবে কবে কেজুএল ড্রেস পরতে পারবেন – এই নিয়ে কিছু জিগ্যেস করবেন না। এইগুলো খুবই তুচ্ছ ব্যাপার। এইসব ব্যাপারে মাথা ঘামিয়ে নিজের ইমেজ নষ্ট করবেন না।
  • এক একটা কোম্পানিতে অনেক রকমের কাজ থাকে। আপনার বায়ো ডাটা দেখে ইন্টারভিউয়ার বুঝে যাবেন আপনি কি কি কাজে এক্সপার্ট। যেসব কাজে আপনি এক্সপার্ট নন, সেইসব কাজ আপনি যে করবেন না- এইরকম দৃঢ় সিদ্ধান্ত ইন্টারভিউয়ারদের জানাবেন না।
  • নিজের পুরানো কোম্পানি সম্পর্কে কটু মন্তব্য রাখবেন না।
  • যে কোম্পানিতে চাকরি চাইছেন, সেই কোম্পানি সম্পর্কে আপনি যে কিছুই জানেন না- তা ইন্টারভিউয়ার কে জানাবেন না। সেই কোম্পানি নিয়ে জেনে পরে ইন্টারভিউয়ে বসুন।
  • ইন্টারভিউয়ার এর সামনে উত্তেজিত হবেন না। শান্ত মাথায় ধীর মস্তিস্কে সব প্রশ্নের জবাব দিন।
  • তাড়াহুড়ো করে উত্তর দেবেন না।
  • ইন্টারভিউয়ার কে দেখে ঘাবড়ে যাবেন না। সেও কিন্তু আপনার মতোই একজন।

ইন্টারভিউ প্যানেলে জিগ্যেস করা কিছু সাধারন প্রশ্ন

১। আপনার সম্পর্কে কিছু বলুন ( Tell me about yourself):

  • আপনার সম্পর্কে বলার সময়ে আপনি সংক্ষেপে আপনার এডুকেশনেল হিস্ট্রি বলুন।
  • যে যে কোম্পানি তে এর আগে চাকরি করেছেন সেইসবের নাম বলুন।
  • কি কি কাজ করেছেন তা নিয়ে বলুন। আর এটা যদি আপনার প্রথম ইন্টারভিউ হয় তাহলে আপনি যে যে কাজে এক্সপার্ট সেইসব নিয়ে বেশী বলুন।

২। আপনাকে আমরা কেন নেব ( Why will we hire you?):

  • এই প্রশ্নের উত্তরে আপনি আপনার সত্যিকারের প্রশংসা করবেন। আর সেই প্রশংসার মধ্যে থাকবে এক অদম্য আত্মবিশ্বাস যা দেখেই ইন্টারভিউয়ার প্রসন্ন হয়ে যাবেন।
  • আপনি যেসব কাজে এক্সপার্ট সেইগুলোকে হাইলাইট করুন।
  • পরিশ্রম যে আপনার জীবনের মূল মন্ত্র তা জানিয়ে দিন।

৩। আপনার দুর্বলতা কি ( what are your weak points?)

এই প্রশ্নটা খুব সাবধানে উত্তর দেওয়া উচিৎ।

  • আপনার মধ্যে কি এমন গুন আছে যা অন্যের জন্য খুবই ভালো, আপনার নিজের জন্য ততটাও হয়তো নয়। যেমন ধরুন- আপনি অন্যদের না সাহায্য করে থাকতে পারেন না।
  • আবার এটাও হতে পারে- আপনি কাজ ফেলে থাকতে পারেন না। দীর্ঘসূত্রিতা আপনার ডিকশেনারিতে নেই।
  • আপনি কোন কাজে না বলতে পারেন না।

৪। আপনার শক্তি কিসে ( what is your strength?)

  • এখানে আপনি আপনার ভেতরের গুন গুলো বলুন। যেমন ধরুন- আপনি খুব পরিশ্রমী।
  • আপনি টেকনিক্যালি কি কি কাজে খুব এক্সপার্ট- সেইসব নিয়ে বলুন।

৫। আপনি আপনার কোম্পানি কেন ছাড়তে চান? ( Why do you want to change the company?):

  • আপনি আরও বেশী কাজ শিখতে চান।
  • একটা লাইনে তো কাজ করছেন বর্তমান কোম্পানিতে। ওইটা ছাড়াও আরও অন্য লাইনে কাজ শিখতে আগ্রহী।

যে কোম্পানিতে ইন্টারভিউ দিতে যাবেন, যাওয়ার আগে সেই কোম্পানি কি ধরনের কাজ করে তা জেনে নিন। ইন্টারভিউ দিতে যাওয়ার আগে মনের মধ্যে এই ভাবনা রাখুন যে কোন এক অপরিচিত এর সাথে কথা বলতে যাচ্ছেন।

ইন্টারভিউ এ নির্বাচিত হলে ভালো, আর না হলে আরও ভালো এই কারনে পরের বারের ইন্টারভিউটা আরও ভালো হবে আর এবারে অভিজ্ঞতা অর্জন হবে। মনের মধ্যেএই ভাবনা রাখুন। আর এগিয়ে যান প্রচুর আশা এবং আত্মবিশ্বাস নিয়ে। জয় আপনার হবেই হবে।

আশা করি চাকরির ইন্টারভিউ দেওয়ার কৌশল গুলো আপনাদের উপকারে আসবে।

চাকরির ইন্টারভিউ দেওয়ার কৌশল গুলো যদি উপকারী বলে মনে হয়ে থাকে তাহলে অবশ্যই বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন।

সুস্থ থাকুন, ভালো থাকুন, সবাইকে ভালো রাখুন। চলুন, সবাই মিলে একসাথে এক সুন্দর পৃথিবী গড়ে তুলি। এই পৃথিবীর প্রতিটি কোনা ভরে উঠুক ঈশ্বরের আশীর্বাদে!  

One thought on “চাকরির ইন্টারভিউ দেওয়ার কৌশল

Leave a Reply

Your email address will not be published.

সাম্প্রতিক পোস্ট