চাকরি নাকি ব্যবসা- কোনটা ভালো হবে?

কি করবেন-চাকরি না ব্যবসা

গ্রাজুএট হওয়ার পর আপনি কি ঠিক করতে পারছেন না কোন লাইনে যাবেন? চাকরি নাকি ব্যবসা? ইউটিউব এ সার্চ করেই চলেছেন –চাকরির সুবিধা কি কি আর ব্যবসার সুবিধা কি কি?

কখনো নিজের মনের ইচ্ছাগুলোকে নিয়ে ভেবেছেন? প্রশ্ন করুন নিজেকে- আমি কি করলে খুশী হবো? কোন কাজটাতে আমি এক্সপার্ট হতে পারবো?

কোন কাজটা করলে আমি অনেকক্ষণ ধরে করলেও ক্লান্ত হবো না?

এইসব প্রশ্নের উত্তরগুলো খুঁজে বার করুন। নিজের সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন। নিজেকে চিনুন।

এরপর জেনে নেওয়া যাক চাকরি কাকে বলে আর ব্যবসা কাকে বলে।

চাকরি নাকি ব্যবসা?

চাকরি বলতে আপনি কি বোঝেন? আসল কথা হল চাকরি বলে কিছুই নেই। সবই ব্যবসা। আপনি যদি কোন কোম্পানির মালিক হন, তাহলে আপনি বলেন যে আপনি ব্যবসা করছেন।

আবার আপনি যদি সেই কোম্পানির আন্ডারে কাজ করেন, তখন আপনি বলেন যে আপনি চাকরি করছেন। তাই তো?

তাহলে চাকরি নাকি ব্যবসা এই প্রশ্নের উত্তর যদি জানতে চান তাহলে সবচে বড় প্রশ্নটা নিজেকে করুন- “ আমি কি কারো আন্ডারে কাজ করতে ভালবাসি? নাকি আমি নিজে এককভাবে স্বাধীনভাবে কিছু করতে চাই?”

এই যে সরকারি কোম্পানিগুলো আছে, সেগুলোও তো ব্যবসা। তবে আপনার কাছে তা চাকরি কিন্তু সরকারের কাছে তা ব্যবসা।

আপনার ব্যবসা অনেক মানুষকে চাকরি দিতে পারবে- এটা কি আপনি চান? নাকি এটা চান- আপনি অন্যের ব্যবসায় অন্যের আন্ডারে কাজ করবেন?

যা আপনার কাছে চাকরি তা কিন্তু একজনের কাছে ব্যবসা। এমন কি স্কুল কলেজগুলোও এখন ব্যবসাতেই দাঁড়িয়েছে। টিচার আর ডাক্তারদের মহৎ হিসেবে ভাবা হত, আর কয়েক দশক আগে এমনটাই তো ছিল।

এই মহৎ দুটো পেশাও এখন ব্যবসা তে দাঁড়িয়েছে। হ্যাঁ, আপনি বলতেই পারেন যে –আমি তো একজন টিচার, আমি আবার ব্যবসা করলাম কোথায়?

ওই যে বললাম- আপনার চাকরি-অন্যের ব্যবসা। হ্যাঁ, এটা ঠিক যে আপনি চাকরি করছেন।

কিন্তু যিনি স্কুলটা খুলেছেন, যিনি স্কুলের মালিক তিনি তো ব্যবসাই করছেন। তিনি প্রতিনিয়ত ভেবে চলেছেন কি করে বেশী ইনকাম করা যায়, কি করলে বেশী বেশী ছাত্র ছাত্রীদের ভর্তি করা যায়।

অনেকে আবার টিচার এর পেশায় থেকে সরকারি চাকরি করে টিউশেন পড়ান। এটা কি ব্যবসা নয়?

ব্যবসা মানে –আপনি স্বাধীনভাবে কিছু কাজ করে ইনকাম করবেন। ব্যবসা মানে আপনি কারো আন্ডারে নয়, আপনার আন্ডারে অনেকেই কাজ করবে।

চাকরি মানে আপনাকে কি কাজ কতক্ষন করতে হবে তা অন্য কেউ ঠিক করে দেবে। চাকরি মানে আপনি রেগুলার একটা ফিক্সড টাইমে কাজ করে মাসের শেষে একটা ফিক্সড টাকা আনবেন।

এরপর দেখে নিন কারো আন্ডারে কাজ করার সুবিধা আর অসুবিধাগুলো কি কি।

চাকরির সুবিধা কি কি

  • চাকরি হল সিকিউর।
  • কমফোট যোন
  • প্রতি মাসের শেষে সেলারি নিশ্চিত
  • জব টাইম ফিক্সড
  • কন্সট্যান্ট ইনকাম
  • ওয়ার্কিং আওয়ার কম
  • পরিবারকে সময় দেওয়া যায়
  • লস এর ইফেক্ট আপনার ওপর পড়বে না

ব্যবসার সুবিধা কি কি

  • চাকরির মতো সিকিউর না
  • রিস্ক আছে
  • প্রতি মাসের শেষে সেলারি একই হয় না
  • কাজের টাইম ফিক্সড নয়
  • কন্সট্যান্ট ইনকাম নয়
  • ওয়ার্কিং আওয়ার বেশী
  • পরিবারকে ফিক্সড সময় দেওয়া যায় না
  • লস এর ইফেক্ট আপনার ওপরই পড়বে

চাকরি নাকি ব্যবসা -কি করে বুঝবেন কোনটাতে যোগ দেবেন?

ব্যবসাতে আপনিই বস। আপনার কাজ, আপনার সিদ্ধান্ত, আপনারই চিন্তা। আপনিই মালিক। দায়িত্ব প্রচুর। আপনাকে আপনার প্রতিযোগীদের খোঁজ নিতে হবে।

মার্কেট এর চাহিদা সম্পর্কে জ্ঞান রাখতে হবে। সবার থেকে বেস্ট টা সবসময় দেওয়ার চেষ্টা করতে হবে।

ব্যবসাতে আপনার ডেডিকেশেন চাই। একটা স্বতঃস্ফূর্ত ইচ্ছা আসা চাই ভেতর থেকে। আপনি করেই ছাড়বেন- এইরকম দৃঢ় ভাবনা চাই।

ব্যবসা তে লাভ বা ক্ষতি যাই হোক না কেন আপনি মাঝ পথে ছেড়ে চলে আসবেন না- এই প্রতিজ্ঞা করার মতো মানসিকতা চাই।

সন্তান যেমন পরীক্ষায় খারাপ রেজাল্ট করলে আপনি তাকে ছাড়তে পারেন না, বরং সে কি করলে আরও ভালো রেজাল্ট করতে পারে- তার চেষ্টা করে থাকেন ঠিক তেমনি ব্যবসা তে ক্ষতি হলেও আপনার ছেড়ে যাওয়া চলবে না।

ব্যবসাতে ক্ষতি হলে নিজেকে এনালিসিস করতে হবে আর জানতে হবে আপনার কোন ভুলোগুলোর জন্য ক্ষতি হল। তারপরে সেই ভুলগুলো শুধরানোর উপায় খুঁজতে হবে।

দেখুন তো নিচের এই বৈশিষ্ট্য গুলি কি আপনার মধ্যে আছে? যদি থেকে থাকে, তাহলে আপনি ব্যবসার জন্য নিজেকে তৈরি করুনঃ

আত্মবিশ্বাস

আপনার মধ্যে কি বিশাল আত্মবিশ্বাস আছে? সারা পৃথিবীর মানুষ আপনার মন ভাঙ্গানোর চেষ্টা করলেও আপনার মন কিছুতেই কি ভাঙ্গে না?

আপনি কি যেটা চান সেটা করেই ছাড়েন। সেটা না হওয়া অবধি কি আপনি নিশ্চিন্তে ঘুমোতে পারেন না?

এই আত্মবিশ্বাসের পরিমানই আপনাকে বলে দেবে, আপনার কি করা উচিৎ- চাকরি নাকি ব্যবসা।

পরিশ্রম

একটু কাজ করেই ক্লান্ত হয়ে যান না তো? আপনার পছন্দের কাজ গুলো একটানা ২৪ ঘণ্টা করতে পারবেন যদি কখনো প্রয়োজন পড়ে? পছন্দের কাজগুলোর সাথে সবসময় থাকতে ভালোবাসেন তো?

এইসবের উত্তর যদি হ্যাঁ হয়ে থাকে তাহলে আপনি ব্যবসা করার মতো রিস্ক নিতে পারেন। সফলতা নিশ্চিত।

ধৈর্য

দুদিন ১৮-২০ ঘন্টাই কাজ করলেন কিন্তু তবুও একটা টাকাও রোজগার তো হলই না, উলটে অনেকগুলো টাকা পকেট থেকে বেরিয়ে গেল।

এই পরিস্থিতিতে কি করবেন? হতাশ হয়ে পরের দুটো দিন মন খারাপেই কাটিয়ে দেবেন কি? তাহলে ব্যবসা আপনার জন্য নয়।

আর যদি এইরকম পরিস্থিতিতে আপনি আপনার ভুলগুলো খুঁজে বার করে পরের দুটো দিন আবার লাগাতার ১৮-২০ ঘন্টা কাজ করতে পারেন তাহলে ব্যবসা করতে পারেন।

ম্যানেজ করার পলিসি

কলাকৌশল জানেন কি? ধরুন একান্নবর্তী পরিবার। অনেকগুলো বাচ্চা আছে সেই বাড়ীতে। বিভিন্ন বয়সের ছেলে মেয়ে আছে। আপনি বড় দাদা। সবার জন্য পুজোর বাজার করেছেন। আপনার বাবাই আপনাকে সেই দায়িত্ব দিয়েছে।

আপনি নিজের মনের মতো পছন্দ করে সবার জন্য জামা কাপড় নিয়ে এসেছেন। সাইজ আপনি জিগ্যেস করেই নিয়েছিলেন। তাই সাইজ নিয়ে তো কোন অসুবিধে হয় নি।

বাড়ীতে এসে আপনি দেখলেন আপনার দেওয়া জিনিষগুলো একটা বাচ্চারও পছন্দ হয় নি। জিনিষগুলোর কোয়ালিটি কিন্তু যথেষ্ট ভালো। দামও বেশ ভালো।

কিন্তু তাও প্রতিটি বাচ্চাই অভিযোগ করছে আবার দোকান যাওয়ার জন্য। এই পরিস্থিতিতে আপনি কি করবেন?

আপনি কি আবার দোকানে যাবেন? যদি এই রকম পরিস্থিতিতে আপনি আবার দোকান যান, তাহলে ব্যবসা আপনার জন্য নয়।  

এইসব ক্ষেত্রে কি আপনি সহজেই ম্যানেজ করতে পারেন? তাহলে ব্যবসার কথা ভাবতে পারেন।

ব্যবসা করতে গেলে ম্যানেজ করার কলাকৌশল জানাটা খুবই জরুরী।

কাজ করানোর ক্ষমতা

আপনি কি নিজের কিছু কিছু কাজ অন্যকে দিয়ে করিয়েছেন কখনো? এই ধরুন আপনার পড়ার নোটগুলো আপনার বন্ধু কখনো জেরক্স করে দিয়েছে? নাকি আপনিই আপনার এবং তার দুজনেরই নোটগুলো জেরক্স করান প্রতিবার?

প্রথমদিকে তো আপনি একাই ব্যবসাটা শুরু করবেন। কিন্তু পরে ব্যবসা যখন প্রসারিত হবে, তখন কাজের পরিমানও বাড়বে। তখন তো আপনি একা কন্ট্রোল করতে পারবেন না।

জেদের বসে আবার এটা ভাববেন না যে আপনি একাই সব পারবেন। আপনি একা সব পারবেন যতক্ষণ আপনার ব্যবসা ছোট থাকবে।

ধীরে ধীরে আপনার কর্মচারীর বা হেল্পার এর প্রয়োজন পড়বে। তখন কিছু কাজ অন্যদের কে দিয়ে করানোর প্রয়োজন পড়বে। সেই কলাকৌশল জানা আছে তো?

ধীর স্থির মস্তিস্ক

কর্মচারী বা হেল্পার তারাই হবে যারা আপনার চেয়ে র‍্যাঙ্কে পিছিয়ে আছে। তাদের কে দিয়ে কাজ করাতে গেলে মাথা ঠাণ্ডা রাখাটা খুবই দরকার।

আপনি অল্পতেই উত্তেজিত হয়ে পড়েন না তো? সেক্ষেত্রে কিন্তু ব্যবসা আপনার জন্য একদমই নয়।

অর্থ

সবার শেষে যেটা থাকা দরকার টা হল ফান্ড, মানে অর্থ। যে কোন ব্যবসা শুরু করতে গেলে প্রথমেই বেশ কিছুটা বড় এমাউন্ট এর প্রয়োজন পড়ে।

সে আপনি লোন নিতেই পারেন। কিন্তু লোন নিতে গেলেও লোন নেওয়ার ক্রাইটেরিয়া ফুলফিল করছেন কিনা টা দেখে নেবেন।

কিছু কিছু অনলাইন ব্যবসা কম ফান্ড দিয়েই অবশ্য শুরু করা যায়। কিন্তু অফলাইন যে কোন ব্যবসাতে কিংবা প্রোডাক্ট বিক্রির ব্যবসাতে প্রচুর পরিমানে অর্থের দরকার।

ব্যবসা করতে চান? এই ভুলগুলো কখনোই করবেন না

  • কাউকে ঠকাবেন না। আপনি যদি কাউকে ঠকিয়ে টাকা রোজগার করেন, জানবেন এই মিথ্যা সুখ বেশিদিন টিকবে না।
  • হুঠহাঠ সিদ্ধান্ত নেবেন না। হুট করে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো সব সময় বিপদই ডেকে আনে।
  • চার পাঁচজনের থেকে লোন নিয়ে, সেইসব শোধ না করে, সমাজে নিজের জায়গাটা ছোট করবেন না।
  • ব্যবসা করতে গেলে, আপনার কাস্টোমার বার বার আপনার থেকে জিনিষ কেনার আগে আপনার পরিচয়, সমাজে আপনার খ্যতি আর আপনার ব্যবহার নিখুঁতভাবে লক্ষ্য করে থাকে।
  • কাস্টোমারদের সাথে শত্রুর সম্পর্ক গড়ে তুলবেন না।

চাকরি নাকি ব্যবসা – এতক্ষণে আপনি নিশ্চয়ই বুঝে গেছেন যে আপনার কি করা উচিৎ- । যদি সাত পাঁচ জ্বালাতে, ঝঞ্ঝাটে না যেতে চান, তাহলে চাকরি খুঁজতে থাকুন।

কি ধরনের চাকরি করবেন, তাই ভাবছেন? মানে সরকারি চাকরি নাকি বেসরকারি? এইসব জানতে ক্লিক করুন নিচের লিঙ্কটিতেঃ

https://bengalimotivation.com/%e0%a6%b8%e0%a6%b0%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%bf-%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a6%bf-%e0%a6%ac%e0%a7%87%e0%a6%b8%e0%a6%b0%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%bf/
সরকারি নাকি বেসরকারি

সুস্থ থাকুন, ভালো থাকুন, সবাইকে ভালো রাখুন। চলুন, সবাই মিলে একসাথে এক সুন্দর পৃথিবী গড়ে তুলি। এই পৃথিবীর প্রতিটি কোনা ভরে উঠুক ঈশ্বরের আশীর্বাদে!  

2 thoughts on “চাকরি নাকি ব্যবসা- কোনটা ভালো হবে?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাম্প্রতিক পোস্ট