ভালো থাকার এক অনন্য উপায়।

ভালো থাকার অনন্য এক উপায় নিয়ে কিছু কথা লিখবো এখানে। তুমি কি খুবই চিন্তিত? তোমার কি মনে হয় কোনো দিনই ভালো কাটছে না ? তুমি কি প্রত্যহ আয়নার সামনে একলা ঘরে একা হুক হুকিয়ে কাঁদতে থাকো ? রাস্তা ঘাটে , অটোতে, বাসে হঠাৎ করে কি চোখে জল চলে আসে? তুমি কি খুঁজে চলেছ এই পরিস্থিতিতে ভালো থাকার এক অনন্য উপায়। তাহলে এই লিখা টি তোমার জন্য ।

এই যে যা কিছু হচ্ছে তোমার সাথে, সব নিশ্চয়ই প্রাকৃতিক ভাবেই হচ্ছে ? এর অর্থ হল এই যে – তোমার কোনো দোষ নেই, তাও তোমাকে অন্যের থেকে কথা শুনতে হচ্ছে । তুমি কিছু ভালো কথা বলছো ,কিন্তু তোমার কথা কেউ শুনছে না । কিন্তু মনে রাখো প্রকৃতি বা ইউনিভার্স  বা বলতে পারো সুপ্রীম পাওয়ার এই সব কিছুর খেয়াল রাখে ।আর এত কষ্ট পাওয়ার পরেও তুমি যদি একতরফা তোমার পরিবারের লোকজনকে ভালবেসে যাও, তাহলে একটা সময় অবশ্যই আসবে যখন প্রকৃতি তোমাকে দুহাত ভরে দেবে। তুমি কিন্তু এখন থেকে তার জন্য তৈরি হয়ে যাও ।

প্রকৃতি যখন দুহাত ভরে দেবে, তখন তোমার হাত দুটো যেন খোলা থাকে, প্রকৃতির কাছে নিজেকে নরম মাটির মতো করে রাখো। ভুল করেও হাত  বন্ধ করে, দৃঢ় হয় থেকো না যেন । প্রকৃতির দেওয়া গিফট গুলো যেন বাউন্স না হয়ে যায়, সেইজন্য চোখ,কান খোলা রাখো।

এখন যে কষ্টগুলো পাচ্ছ মনে রেখো এইগুলো ও কিন্তু গিফট। দৃষ্টিভঙ্গিটাকে বদলাও। কোনো এক বাগান তৈরি করার জন্য সবার আগে কি দরকার জানো? ফাঁকা জমি । শুধু ফাঁকা জমি পেলেই কি তুমি বাগান বানাতে পারবে?  তাহলে আর কি দরকার হতে পারে একটা ভালো ফুলের বাগান করার জন্য? উর্বর মাটি।

মহাভারত মনে পড়ে? যুধিষ্ঠির কে কৌরবরা খণ্ডপ্রস্থ জায়গাটা ছেড়ে দিয়েছিল তো? ওই জায়গাটা খুবই অনুর্বর ছিল। পাণ্ডবদের ছোটবেলাটা  খুবই কষ্টে কেটেছিল। ইউনিভার্স তার সাক্ষী ছিল। কিন্তু তা সত্ত্বেও তারা কৌরবদের জন্য সর্বদা ভালই কামনা করে এসেছে । আর সেই কারণেই ইউনিভার্স অনুর্বর জমি কে বসবাসযোগ্য করে তুলেছিল। তাই তোমার জীবন ও যদি কষ্টে কাটছে, মাথায় রেখো, তোমাকে তোমার পরিবার যে অনুর্বর জমি দিয়েছে, ইউনিভার্স সেই অনুর্বর জমি কে একদিন উর্বর জমি তে পরিণত করে দেবে। কিন্তু সেইদিন তুমি সেই উর্বর জমি তে কি করবে সেই প্ল্যান করে রাখো এখন থেকেই । তখন কিন্তু সময় নষ্ট করলে ইউনিভার্স যে রেটে তোমাকে দিতে চেয়েছিল, দেওয়ার সেই রেট টা কমে যেতে পারে। তাইতো এখন থেকে একটু একটু করে বীজ গুলো কে সংগ্রহ করো। যে যে গাছের প্রতি তোমার আগ্রহ আছে, সেই সেই গাছের বীজ গুলো কে নিজের দিকে আকর্ষণ করো।

যেমন ধরো – তুমি যদি চাও বড় হয়ে সমাজের কিছু উপকার করবে, তাহলে সোস্যাল সার্ভিসের বীজ  সংগ্রহ করো। আর এর জন্য তোমাকে যারা সোস্যাল সার্ভিস করে তাদের সাথে যোগাযোগ তৈরি করতে হবে। যদি তুমি বড় হয়ে ক্যারিয়ার কাউন্সিলর বা সাইকোলজিক্যাল কাউন্সিলর হতে চাও, তাহলে তার জন্য একটা ভালো কোর্স করো। আর যদি তুমি প্রানিক হিলার হতে চাও,তাহলে এর ওপরে কোর্স করো। আর সার্টিফিকেট গুলো সংগ্রহ করো। যদি তুমি বাচ্চাদের অংক শেখাতে চাও,তাহলে নিজে আগে ভালো করে অংকে এক্সপার্ট হয়ে ওঠো, তারপর স্টুডেন্ট জোগাড় করো আর সাথে সাথে এডভার্টাইজিং করতে থাকো। এইগুলোই তো বীজ। আর তারপরে ওই কাজে মেতে থাকা মানেই তো বীজ গুলো কে মাটিতে পুঁতে দেওয়া। তারপরে যখন ঐ কাজগুলোর মধ্যে নিজেকে ভালোবাসার সাথে ডুবিয়ে রাখবে, তখন জানবে সেই বীজ থেকে চারাগাছের জন্ম হয়েছে।

কাজগুলোর সাথে জড়িয়ে থাকা তোমার ভালোবাসাই তোমাকে বুঝিয়ে দেবে যে তুমি চারাগাছ টিকে সযত্নে জন্ম দিতে পারলে নাকি পারলে না। যদি নানান রকম কাজের সাথে নিজেকে জড়িয়ে ফেলতে পারো, আর সেই কাজগুলোর সাথে নিজেকে ভালোবাসার দড়ি দিয়ে বেঁধে ফেলতে পারো, দেখবে ছোট্ট ছোট্ট চারাগাছে ভরে গেছে তোমার বাগান। এরপর তোমার কাজ সেই চারাগাছ গুলোর যত্ন নেওয়া। প্রত্যহ তাদের খোঁজ নেওয়া, পরিমাণ মতো জল দেওয়া, ঠিকঠাক সূর্যের আলো পাচ্ছে কিনা সেদিকে নজর রাখা। ব্যাস, এইটুকু কাজ করতে পারলেই তুমি হাজারগুন বেশি ভালোবাসা পাবে তোমার বাগানের চারাগাছগুলো থেকে। কতরকম ফুলে, ফলে ভরে উঠবে তোমার বাগান। তারপরে সেই বাগানে রংবেরঙের প্রজাপতি বিকেলবেলা খেলতে আসবে। সন্ধ্যেবেলা জোনাকির আলো ঘুচিয়ে দেবে অমাবস্যার অন্ধকার। আর এই মুহূর্তগুলো তে তুমি শুধু ওদের ভালোবাসায় মুগ্ধ হয়ে খিলখিলিয়ে হাসবে। তখন হয়তো অতীতে যে তুমি প্রত্যহ কাঁদতে তার গুরুত্ব খুঁজে পাবে ।বুঝতে পারবে ইউনিভার্স তোমার চোখের জল দিয়ে মাটি কে উর্বর করার অস্ত্র বানিয়েছিল তখন। এইভাবে নানান রকমের বীজ রোপণ করে নানান রকমের চারাগাছের জন্ম দিতে পারলে, দেখবে তোমার জীবন কখন হঠাৎ করে আনন্দে ভরপুর হয়ে উঠেছে।

তোমার বাগান যখন সমৃদ্ধ হয়ে উঠবে, তখন কিন্তু কিছু গাছে পোকাও হতে পারে, তাই বলে ভেঙে যেও না কিন্তু। জানবে যে তুমি এতো ভালো কাজ করছো যে তোমার শত্রু সংখ্যা বেড়ে গেছে। তোমাকে সাবধানে সেইসব শত্রুদের মোকাবিলা করতে হবে কিন্তু। মনে রেখো যারা জীবনের সিঁড়ির অনেকটাই ওপরে উঠে গেছে, তাদেরই শত্রু থাকে।তাই শত্রু দেখে ঘাবড়ে যেও না, বরং সাহসের সঙ্গে এগিয়ে যেও। দেখবে তোমার উন্নতি আর হাসিতে ভরপুর মুখ খানা দেখে শত্রুরা ভয়ে পালিয়েছে।

হ্যালো বন্ধুরা, আশা করি লিখাতার সাথে তোমরা নিজের জীবন কে লিংক করতে পেরেছো এবং লিখাটি তোমাদের ভালই লেগেছে। তাহলে ভালো থাকার এক অনন্য উপায় খুঁজে পেয়ে নিশ্চয়ই খুশী অনুভব করছো। কমেন্ট করে জানিও কেমন লাগলো। ভালো থেকো,সুস্থ থেকো, সকলকে ভালো রেখো। চলো সবাই মিলে এক সুন্দর পৃথিবী গড়ে তুলি যার প্রতিটি কোনা ভরে উঠবে ঈশ্বরের আশীর্বাদে।

2 thoughts on “ভালো থাকার এক অনন্য উপায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাম্প্রতিক পোস্ট