হতাশা দূর করার ১১ টি চোখ ধাঁধানো উপায়

আপনি বা আপনার পরিচিত কেও কি হতাশা তে ভুগছেন? হতাশা থেকে মুক্ত হওয়ার অনেক চেষ্টা করেছেন? কিন্ত সব চেষ্টা কি ব্যর্থ হয়েছে? আপনি কি হতাশা দূর করার উপায় খুঁজছেন গুগুলে?

হতাশা একবার মনের মধ্যে ঢুকলে, তা বার করা খুব কঠিন হয়ে ওঠে।

প্রান খুলে হাসতেও পারছেন না? এক চাপা কষ্ট আপনাকে কি হতাশার মধ্যে ঠেলে দিয়েছে? কিংবা কেও কিছু বলেছে বলে আপনি দুশ্চিন্তায় আছেন?

হতাশা মনের মধ্যে ঢোকার সাথে সাথেই তাকে বার করে দিতে হয়। দীর্ঘদিন ধরে হতাশা মনের মধ্যে বাসা বেঁধে থাকলে তা রোগে পরিণত হয়। আর তখন সেই রোগ সারানোর জন্য ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হয়।

আসুন দেখে নেওয়া যাক, খুব সহজে কিভাবে হতাশাকে দূর করা যায়। হতাশাকে রোগে পরিণত হতে দেবেন না, তার আগেই একেবারে শিকড় থেকে নির্মূল করে ফেলুন এই হতাশাকে।

হতাশা দূর করার উপায়

জেনে নিন মাত্র ১১ টি উপায়ে কিভাবে হতাশা দূর করবেনঃ

১। অবহেলা করতে শিখুন (Learn how to ignore)

কেও কেও আপনাকে ভালো বলবে। আবার কেও আপনাকে খারাপ বলবে। কিন্তু আপনি একজন ই । আপনার মন ও একই। তবু বিভিন্ন ব্যক্তি বিভিন্ন চোখে আপনাকে দেখবে।

সুতরাং আপনাকেও সেইভাবে চলতে হবে। কেও খারাপ বললেই আপনি খারাপ হয়ে যাবেন না।

খারাপ না ভালো তা নির্ভর করে ব্যক্তির কর্মের ওপর, অন্যরা কি বলছে তার ওপর নয়। তাই এই খারাপ বা কটু কমেন্টগুলোকে অবহেলা করতে শিখুন। এইসব বাজে কথাগুলো গায়ে মাখবেন না।

ইংরেজিতে একটা কথা আছে –“ Ignorance is bliss”। যেমন ধরুন – আপনাকে ইংরেজিতে কেও কোন গালিগালাজ দিল, কিন্তু আপনি সেই ইংরেজি কথার মানেই জানেন না। তাহলে কি আপনার খুব একটা খারাপ লাগবে?

আবার ধরুন- আপনাকে আপনার অফিসের বস বললেন –“আপনি কিছুই পারেন না, আপনি খুবই ফাঁকি দেন কাজে”।

আপনি জানেন যে আপনি একদমই ফাঁকি দেন না। আপনি তো জানেন যে আপনার বসের সব কথাগুলো মিথ্যে। তাহলে সেইসব মিথ্যে কথাগুলোকে ignore করুন।

আপনার সম্বন্ধে কে কি বলল সেই নিয়ে মন খারাপ করবেন না।

২। হতাশা কে দূরে সরাতে সর্বদা কাজের মধ্যে ব্যস্ত থাকুন (Engage yourself with good deeds)

সবসময় কিছু না কিছু কাজ করুন। জানেন তো –“অলস মস্তিষ্ক শয়তানের কারখানা”। যখন আমরা কাজের মধ্যে মেতে থাকি, আমাদের মনের মধ্যে উল্টোপাল্টা চিন্তাগুলো আসে না।

আমরা যখন শুধুই বসে থাকি, আমাদের মনে নানান দুশ্চিন্তা আসে। এই দুশ্চিন্তাগুলোই তো হতাশার প্রধান কারন হয়ে দাঁড়ায়।

আপনার যেসব কাজ ভালো লাগে, সেইসব কাজের মধ্যেই নিজেকে ব্যস্ত রাখুন। যদি সেরকম কোন কাজ খুঁজে না পান, তাহলে ছবি আঁকুন কিংবা চিঠি লিখুন কিংবা গাছ লাগান। 

৩। হতাশা ভুলে মনের আনন্দে চিঠি লিখুন

চিঠি লিখতে কার না ভালো লাগে? এবার আপনি বলবেন – কাকে লিখব চিঠি? চিঠি পাঠানো সে আরেক ঝামেলা।

কে বলেছে, চিঠি লিখলেই তা যে ব্যক্তির উদ্দেশ্যে লিখেছেন তাকে পাঠাতে হবে? ধরুন আপনি আপানার বাবাকে প্রচুর ভালোবাসেন। আর আপনি উনার থেকে খুব দূরে থাকেন। প্রত্যহ মন খুলে উনার সাথে কথা বলতে পারেন না।

সেক্ষেত্রে, আপনি আপনার বাবা কেই চিঠিটা লিখবেন। চিঠিটা আপনার কাছে ওষুধের কাজ করবে।

চিঠিটা যখন লিখবেন আপনি একটা আলাদা আনন্দ অনুভব করবেন, একটা শক্তি পাবেন। যে কথাগুলো মুখ ফুটে আপনি আপনার বাবা কে বলতে পারেন না, সেইগুলইতো আপনি চিঠিতে লিখবেন। এতে মন অনেকটাই হাল্কা হয়ে যায়।

চিঠি লিখুন আপনজনকে- হতাশা কে ভুলে থাকুন।
হতাশা কাটাতে চিঠি লিখুন

৪। না বলতে শিখুন (Learn to say ‘No’)

এমন অনেক মানুষ আছে বাড়ীতে, অফিসে যারা আপনাকে দিয়ে সব কাজ টা করিয়ে নিতে চায়। আপনি ততোটাই করবেন যতোটাতে আপনার মন সায় দেবে, আপনি সেইসব কাজই করবেন যা আপনার ভালো লাগে।

এইসব ম্যানেজ করতে গেলে আপনাকে ‘না’ বলতে শিখতে হবে। অফিসের কথায় আসা যাক- আপনি নিশ্চয় জানেন আপনার কর্তব্যগুলো কি কি, আপনার কাজের ধরনগুলো কি। আপনি তার বাইরে মানে অন্য টাইপ এর কাজ করবেন না।

এমন কি আপনি এটাও জানেন আপনাকে অফিসে কতোক্ষণ থাকা উচিৎ, আপনি তার চেয়ে বেশী সময় থাকবেন না।

এবার ধরুন বাড়ীতে বিশেষ করে বিবাহিত মেয়েদের ক্ষেত্রে শশুরবাড়ীতে এমন অনেক ব্যক্তিই আছেন, যারা আপনাকে দিয়েই বাড়ীর সব কাজ করিয়ে নিতে চান। কিন্তু আপনি পেরে ওঠেন না। খুব ই ক্লান্ত হয়ে যান।

আপনার এতো কাজ করতে একদম ভালো লাগে না। আপনি প্রত্যহ মনের বিরুদ্ধে কাজ করেন। এই থেকে ক্ষোভ জন্ম নেয় মনে। সেই ক্ষোভ থেকে হতাশা জন্ম নেয়।

এই ধরনের ক্ষোভ বার করার একটায় উপায় –“না, আমি করবো না”- বলতে শেখা। 

৫। হতাশা কে ঠেলে খোলা মনে হাসুন (Laugh)

কিছু তো ভালো স্মৃতি অবশ্যই আছে আপনার কাছে। সেইসব স্মৃতিগুলো মনে করে হাসুন। জানেন তো “ হাসি আমাদের মনের ওষুধের কাজ করে”।

যদি হাসি না আসে ,জোর করে একলা এক রুমে হেসে আসুন। যেভাবে অনেকেই ডেলি ওষুধ খায়, সেইরকম ওষুধ মনে করে, আপনিও ডেলি ২ মিনিট হলেও হাসুন। জোরে হাসুন। মন খুলে হাসুন।

হাসি- হতাশা দূর করার শ্রেষ্ঠ ওষুধ
মন খুলে হাসতে থাকুন

৬। নিজের ভালো গুনগুলোর কথা ভাবুন

নিজের ভালো গুনগুলোর কথা মনে করে নিজেকে কিছু ভালো উপহার দিন। আর নিজেই নিজের নাম ধরে বলুন যে আপনি খুব ভালো।

যেমন ধরুন, যদি আপনার নাম কৃষ্ণা হয় তাহলে আপনি নিজেকে বলুন-“ কৃষ্ণা, তুমি পারবে। তুমি খুব ভালো। পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ কাজ তোমার দ্বারাই হবে। তুমি যে ভালো কাজটাই করতে চাইবে, সেটাই করতে পারবে।“

এইরকম বলতে থাকলে, আপনার মধ্যে আত্মবিশ্বাস জন্ম নেবে। মন খারাপ বা হতাশার প্রধান কারন হল আত্মবিশ্বাসের অভাব।

৭। নিজেকে সুসজ্জিত করুন

যখন আপনি নিজেকে নিজের পছন্দমত সাজান, আপনি ভেতর থেকে একটা আলাদা আনন্দ অনুভব করেন। আপনি নিজেকে সুন্দর বলে ভেবে থাকেন। আর এর ফলেও আত্মবিশ্বাস বেড়ে ওঠে।

নিজের পছন্দমত কিছু জিনিষ কিনুন যেগুলো দিয়ে আপনি আপনার মন ও শরীর কে ভালোভাবে রাখতে পারবেন। যেমন ধরুন, কিছু ভালো বই কিনুন এবং কিছু ড্রেস কিনুন।

শপিং করুন আর হতাশা তাড়ান।
কেনাকাটা করে নিজেকে আনন্দে রাখুন

৮। নিজেকে জ্ঞানে সমৃদ্ধ করুন

শুধু বাহিরের সাজসজ্জায় আমাদের কারোরেই মন ভরে না। জ্ঞান এ ভরপুর কোন ব্যক্তির আউটলুকে ছোটখাটো কোন ভুল থাকলে, জ্ঞানের আলোতে তা ঢাকা পড়ে যায়। সঠিক জ্ঞান থাকলে, আপনি আরও জ্ঞানের পিছনে ছুটবেন।

জ্ঞান সংগ্রহ করতে আপনি এতোই ব্যস্ত হয়ে যাবেন যে হতাশা আপনাকে ভয় পাবে। যেখানে জ্ঞানের প্রতি ক্ষুধা, জ্ঞানের প্রতি ভালোবাসা, সেখানে হতাশার স্থানই নেই।

জ্ঞানের আলোতে, হতাশার মতো অন্ধকার সহজেই দূর হয়ে যায়। তাই জ্ঞানের পিছনে দৌড়াতে থাকুন, হতাশা আপনাকে ছেড়ে চলে যাবে।

৯। প্রিয়জনদের সাথে কিছুটা সময় কাটান- হতাশা থেকে থাকবেন দূরে

কোন মানুষের মনই সব সময় ভালো থাকে না। মন সবসময় ভালো থাকা মানে তো মনের গ্রাফ একটি সরলরেখা হবে। আর সরলরেখার গ্রাফগুলো তো পতনের ইঙ্গিত দিয়েই থাকে।

মন কখনো ভালো কখনো খারাপ হবে – এটাকে হতাশা বলে না বরং এটা স্বাভাবিক। হতাশা হল সেটাই যা আপনাকে সর্বক্ষণ বিচলিত করে তোলে।

দীর্ঘদিন দীর্ঘসময় ধরে মন খারাপ কে জমিয়ে রাখলে, তা থেকে হতাশা জন্ম নেয়। তাই মন খারাপ হলেই প্রিয়জনদের সাথে কিছুটা সময় কাটান।

মনের কষ্টগুলো মনের মধ্যে না রেখে, প্রিয়জনদের সাথে শেয়ার করুন। প্রিয়জনদের মধ্যে যাদের আপনি খুব ভালোবাসেন, যাদের কে ভরসা করতে পারেন, শুধুমাত্র তাদেরকেই মনের কথা বলুন।  

১০। বেড়াতে যান

আশেপাশে কোথাও বেড়াতে যান। প্রকৃতির সাথে একান্তে কথা বলুন। খোলা হাওয়ায় খোলা মনে নিজের হতাশাগুলোকে প্রকৃতির বুকে উজাড় করে দিন।

প্রকৃতিকে মনের চোখ দিয়ে দেখুন। 

প্রকৃতির সাথে কথা বলুন- হতাশা নেবে বিদায়।
প্রকৃতি এর রূপে মুগ্ধ হয়ে ভ্রমনের আনন্দ নিন- তাহলেই হতাশা যাবে দূরে সরে।

১১। মনের কথা অন্ততপক্ষে একজনকে বলুন

মনের কথা একজনকে হলেও বলুন।এমন একজনকে মনের কথা বলুন যাকে আপনি বিশ্বাস করতে পারেন, যিনি আপনাকেও বিশ্বাস করেন এবং যিনি নিজের ব্যক্তিগত কথা আপনার সাথে শেয়ার করেন।

 এই ১১ টি উপায় ফলো করলে আপনি ভেতর থেকে একটা আত্মবিশ্বাস অর্জন করবেন, নিজেকে ভালবাসতে পারবেন। আর ধীরে ধীরে লক্ষ্য করবেন যে হতাশা আপনাকে ছেড়ে অনেকদিন আগেই চলে গেছে।

তখন আপনার মনে হবে –আপনি কতো বোকা বোকা কারনে দুশ্চিন্তা করে নিজেকে কষ্ট দিতেন। আপনি “কিভাবে হতাশা দূর করবো” সেই ভেবেই ক্লান্ত হয়ে যেতেন, যেখানে হতাশা দূর করার চাবিকাঠি আপনার হাতেই।

আপনি বুঝতে পারবেন জীবনের সারকথা। আপনি বুঝতে পারবেন- সবার জীবনেই কমবেশি দুশ্চিন্তা থাকে, কিন্তু তাও ওরা হতাশা কে ধারে কাছে আসতে দেয় না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাম্প্রতিক পোস্ট