রাগ কমানোর ওষুধ গুলো কি কি?

রাগ কমানোর ওষুধ

আপনি কি খুব রেগে যান? আর সেই রাগ নিয়ন্ত্রন না করে কিছু বাজে কাজ করে ফেলেন বা কারো সাথে সম্পর্ক তিক্ত করে ফেলেন? রাগ যখন কমে যায়, তখন সব কিছুর জন্য আফসোস করেন? আমি এই পোস্টে রাগ কমানোর ওষুধ গুলো কি কি সেই নিয়েই আলোচনা করবো।

যে সম্পর্ককে আপনার রাগের জন্য তিক্ত করে ফেলেছেন, সেই সম্পর্ককে কি আর ঠিক করতে পারেন না? মানুষ মাত্রই কম বেশী রেগে যায়।

কিন্তু যারা রাগ কমানোর ওষুধ গুলো জানে, তারা সম্পর্কগুলোকেও জয় করে ফেলে।

আপনি অন্য কিছুর রাগ আপনার পরিবারের সদস্যের ওপর ঝাড়েন না তো? যেমন ধরুন আপনি অফিসে কোন কারন ছাড়াই আপনার বস এর থেকে ঝাড় খেয়েছেন; আর তখন থেকে আপনার মন চঞ্চল আর মনের ভেতরে আগুন জলছে।

তাহলে বাড়ীতে গিয়ে আপনার প্রতিক্রিয়া কি হবে?

এই রকম পরিস্থিতিতে আপনি কি নিজের ওপর কন্ট্রোল হারিয়ে ফেলেন? আপনি কি খামোখা নিজের স্ত্রী বা পরিবারের অন্য কোন সদস্যের ওপর রাগ দেখান যেমনটা আপনার সাথে আপনার অফিসে হয়েছিল?

আপনি কি নিজের অজান্তেই বেশী রেগে যাচ্ছেন?

রাগ কেন হয়?

যখন কেউ আপনার সাথে বাজে ব্যবহার করে থাকে কিংবা আপনাকে কিছু অপ্রিয় মন্তব্য করে থাকে তখন আপনি হয় কষ্ট পাবেন; লুকিয়ে লুকিয়ে কাঁদবেন কিংবা আপনি উত্তেজিত হয়ে উঠবেন।

এই দুই ক্ষেত্রেই আপনার শরীরে কিছু হরমোন ক্ষরণ হয়ে থাকে। এই হরমোন ক্ষরণ হওয়ার ফলে আপনার মধ্যে প্রচুর নেগেটিভ শক্তি তৈরি হয়।

যে লোকটি আপনার সাথে বাজে ব্যবহার করলো; সে কিন্তু নিজে কিছুটা হাল্কা হয়ে গেল আর আপনার মধ্যে নেগেটিভ শক্তির একটি বল ছুঁড়ে দিল।

এরপর আপনি সেই বলটা কি আপনার পরিবারের দিকে ছুঁড়তে চান নাকি আপনি নীচে দেওয়া টিপস গুলোর মাধ্যমে সেই বলকে ভেনিস করতে চান; তা কিন্তু আপনার ওপরেই নির্ভর করছে।

যখন আপনি এরকম ঘটনার পরে লুকিয়ে লুকিয়ে কাঁদতে থাকেন, সেই নেগেটিভ শক্তির বল কান্নার মাধ্যমে বাইরে বেরিয়ে যায়।

আর যদি আপনি উত্তেজিত হয়ে পড়েন, এই নেগেটিভ শক্তির বল ভেতরেই থেকে যায়। কিন্তু সবাই তো কাঁদতে পারে না, তাহলে উপায় কি?

এই নেগেটিভ শক্তিকে পরিশ্রমের মাধ্যমে বাইরে বার করা যায়। এখানে নেগেটিভ শক্তিকে নিজের মধ্যে রাখা একদমই চলবে না। এই নেগেটিভ শক্তিকে আপনি অন্য় শক্তিতে রুপান্তরিত করতে পারেন।

রাগ কিন্তু খুব ক্ষতিকর। রাগ আমাদের অজান্তেই আমাদের শরীরের ক্ষতি করে। বেশিক্ষণ রাগ মনের মধ্যে জমিয়ে রাখাও বাজে আবার রাগ কারোর ওপর ঝেড়ে দিলে সম্পর্ক বাজে হওয়ার আশঙ্কাও থাকে।

তাহলে আপনাকে এই দুই এর মধ্যে সামঞ্জস্য রেখে চলতে হবে। যেমন ধরুন- আপনি রাগ মনের মধ্যে না জমিয়ে রেখে কারো সাথে শেয়ার করলেন।

রাগের সময়ে আমাদের খুব জোরদার শক্তির আবির্ভাব হয়। এই শক্তিকে কে কিভাবে কাজে লাগাবে,  তা নির্ভর করছে ঐ ব্যক্তি “ কিভাবে রাগ নিয়ন্ত্রন করা যায়” এই ব্যাপারে বোধগম্য কিনা।

অনেকেই আবার মনের রাগ,কারো সাথেই শেয়ার করতে পারে না। আর তাদেরই তো নীচে উল্লেখ করা টিপসগুলো ফলো করা একান্তই দরকার।

রাগ কমানোর ওষুধ

১। তৎক্ষণাৎ রাগ এর কারন থেকে দূরে সরে যান

যখন কেও আপনার সাথে আপনার মনের মতো আচরণ না করে আপনাকে রাগিয়ে দেয়, সেই রাগের প্রভাব আমাদের মস্তিস্কে ২.৫ সেকেন্ড স্থায়ী হয়।

এই ২.৫ সেকেন্ডের মধ্যে আপনি যদি রাগের কারণকে সরিয়ে ফেলতে পারেন, তাহলে আপনি “রেগে যাওয়ার মতো এক ক্ষতিকর রোগ” থেকে মুক্তি পেয়ে গেলেন।

আর যদি ওই ২.৫ সেকেন্ডের মধ্যে আপনি আরও বেশী রেগে যান, তাহলে ঐ রাগ আরও ২.৫ সেকেন্ড স্থায়ী হয়, আর আপনি যদি আপানার রাগের তীব্রতা ক্রমশই বাড়াতে থাকেন; তাহলে সারা দিন ঐ রাগ আপনাকে প্রভাবিত করবে।

এইসব কারনেই যে মুহূর্তে আপনি রেগে যাবেন, সেই মুহূর্তেই আপনার রাগের কারন থেকে এবং যার ওপর আপনি রেগে যাচ্ছেন তার থেকেও দূরে সরে যাওয়া উচিৎ।  

২। রাগ কে দূর করতে ক্ষমা করে দিন

যার জন্য আপনি রেগে যাচ্ছেন তাকে ক্ষমা করে দিন। এতে কিন্তু আপনারই লাভ। ক্ষমা করে দেখবেন নিজেকে খুব হাল্কা লাগে; মনে হয় মাথার ওপর যে একটা বোঝা ছিল, তা যেন আর নেই।

ক্ষমা হল বড় ধর্ম। যদিও এইসব মুখে বলা খুব সহজ কিন্তু কাজে করে দেখানো খুবই টাফ।

যে কোন নতুন জিনিষ বা কাজই তো টাফ। আপনি যখন জীবনে প্রথম স্কুলে গিয়েছিলেন, আপনার কি ভালো লেগেছিল?

আপনি যেদিন প্রথম অফিসে বা কাজের জায়গায় জয়েন করেন, সেদিন কি আপনার ভালো লেগেছিল?

কিন্তু বেশ কয়েক মাস যাওয়ার পর  ধীরে ধীরে এই দুটো জায়গাই আপনার প্রিয় জায়গা হয়ে উঠেছিল।

ঠিক একইরকমভাবে আপনি বেশ কয়েকবার ক্ষমা করার পর দেখবেন যে ক্ষমা করা আপনার একটা বিশেষ গুন হয়ে উঠেছে। আর এর মাধ্যমে আপনি এক অনাবিল আনন্দ অনুভব করছেন।

৩। ডায়েরি ব্যবহার করুন আর রাগ কে মেরে ফেলুন

ডায়েরি লিখার অভ্যেস গড়ে তুলুন। একটা ডায়েরি শুধু রাগ লিখে রাখার জন্য রাখুন।

  • মনের মধ্যে জমে থাকা রাগগুলোকে ডায়েরিতে লিখে ফেলুন।
  • আপনার প্রতিক্রিয়াও ডায়েরিতে লিখে ফেলুন
  • আপনি যদি সেই ব্যক্তিকে উদ্যেশ্য করে কিছু রাগের কথা বলতে চান, তাহলে সেইসব কথা না বলে ডায়েরিতে লিখে ফেলুন।

আপনার মনের রাগকে লিখাতে রূপ দিন। আপনি কি জানেন যে রাগের মাধ্যমে আপনি অনেক শক্তিক্ষয় করে ফেলেন। আপনার মধ্যে কিছু হরমোন ক্ষরণ হয়েছে যে তার শক্তিকে বাহিরে বার করতে চায়।

আর এই কারনেই তো রেগে গেলে বেশীরভাগ মানুষেই হয় বাড়ীর লোকদের ঝাড়তে থাকে কিংবা কিছু ভাঙচুর করতে থাকে। রাগ মানেই তো শক্তির অপব্যবহার।

৪। ব্যায়াম করুন

যে মুহূর্তে আপনি রেগে যাবেন, যে জায়গায় আপনি রেগে যাচ্ছেন সেই জায়গা থেকে দূরে সরে গিয়ে একান্তে কিছুক্ষণ ব্যায়াম করুন।

আপনি যদি নাচ পছন্দ করেন, আপনি নাচ ও করতে পারেন।

রাগের মাধ্যমে আপনার মধ্যে যে শক্তি তৈরি হয়েছে সেই শক্তিকে কোন না কোনভাবে বাহিরে বার করতেই হবে।

তাই আপনি যদি নাচ বা ব্যায়াম করেন, আপনার শক্তি সহজেই বেরিয়ে যেতে পারে।

খুব জোরে ছুটুন আর রাগ কে ঘামের মধ্য দিয়ে বাইরে বার করে দিন।
এক্সারসাইজ

৫। জোরে নিঃশ্বাস নিন

আপনি যখন অনুভব করলেন যে আপনি খুব রেগে যাচ্ছেন, মুখে কোন কথা না বলে, সেখান থেকে সরে গিয়ে একান্তে জোরে শ্বাস নিন আর শ্বাস ছাড়ুন।

এইরকম শ্বাস নেওয়া আর ছাড়া বেশ কয়েকবার করতে থাকুন।

জোরে নিঃশ্বাস নিলে আপনার পরিশ্রম হবে। আর এই পরিশ্রমের মাধ্যমে আপনার মধ্যে তৈরি হওয়া শক্তি বাহিরে বেরিয়ে যেতে পারবে।

৬। মেডিটেশেন করুন

আপনি যদি মাঝে সাঝেও মেডিটেশেন করে থাকেন, তাহলে রাগের মুহূর্তে একান্তে এক রুমে গিয়ে মেডিটেশেন শুরু করুন।

আর যাদের মেডিটেশেন করার কোন অভ্যেস নেই, বা করতে পারেন না তাদের জন্য বলবো- আপনার যে মহাপুরুষ কে ভালো লাগে, তার ফটোর সামনে বসে সেই মহাপুরুষের চোখের দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকুন কিছুক্ষণ।

কন্সেন্ট্রেশেন
মেডিটেশেন

৭। আপনার প্রিয় কাজে কিছুক্ষণ সময় কাটান

আপনি যদি গান গাইতে ভালো বাসেন তাহলে রাগের মুহূর্তে রেওয়াজ করুন।

আপনি যদি গাছ লাগাতে ভালোবাসেন, তাহলে টবের মধ্যে মাটি দিয়ে বা বাগানে মাটি খুঁড়ে গাছ লাগান কিংবা গাছের যত্ন নিন। গাছ বা ফুলদের সাথে মনে মনে কথা বলুন।

৮। জোরে হাঁটুন কিছুক্ষণ

যে সময়ে আপনি রেগে গেলেন সেই মুহূর্তেই ঐ জায়গা থেকে সরে গিয়ে কোথাও ফাঁকা জায়গায় খুব জোরে পায়চারী করতে থাকুন। জোরে হাঁটলে পরিশ্রমের মাধ্যমে জমে থাকা নেগেটিভ শক্তি বাহিরে বেরিয়ে যাবে।

জোরে হাঁটা
হাঁটা

৯। চিন্তা করুন

রেগে যাওয়ার মুহূর্তে চিন্তা করুন- আপনাকে যে দু চার কথা বলেছে সেইসবের প্রতিক্রিয়ায় আপনি যদি রেগে যান ক্ষতি কার হবে।

ঐ লোকটির দু চার কথা কে পাওয়ার (power) দেবেন কিনা তা কিন্তু আপনার ওপর নির্ভর করছে।

আপনি যদি ঐ দু চার কথায় খুব বাজেভাবে প্রতিক্রিয়া করেন, তাহলে ঐ লোকটির কথাগুলোর গুরুত্ব বেড়ে যাবে আর সেই গুরুত্ব আপনার জন্যই বাড়বে।

আর আপনি যদি কোন প্রতিক্রিয়াই না জানান, ঐ লোকটি পরের বার থেকে আপনাকে কিছু বলার আগে অনেকবার ভাবতে থাকবে।

কারন সে জেনে গেছে যে যাই কথা সে বলুক না কেন, আপনার তাতে কিছুই যায় আসে না, আপনি নিজের ছন্দেই চলবেন।  

এই ৯ টি  উপায়ের যে কোন একটি উপায় আপনি ফলো করতে পারেন।

প্রত্যেকটি উপায় ফলো করে আপনি প্রথমে দেখে নিন কোন উপায়ে আপনি রাগ নিয়ন্ত্রন করতে পারছেন,কোন উপায়টি আপনার পক্ষে বেশী কার্যকরী হচ্ছে।

এইসব উপায় ফলো করা একান্তই দরকার যারা সহজেই রেগে গিয়ে মাথা গরম করে ফেলেন। মনে রাখবেন- আপনার রাগ আপনারই ক্ষতি করে, অন্যের ক্ষতি করে না। তাই রাগ হলে, রাগ কমানোর ওষুধ গুলো গ্রহন করুন, আর রাগ কমান। সুস্থ থাকুন, ভালো থাকুন, সবাইকে ভালো রাখুন। চলুন, সবাই মিলে একসাথে এক সুন্দর পৃথিবী গড়ে তুলি। এই পৃথিবীর প্রতিটি কোনা ভরে উঠুক ঈশ্বরের আশীর্বাদে!    

4 thoughts on “রাগ কমানোর ওষুধ গুলো কি কি?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাম্প্রতিক পোস্ট