আমার প্রিয় শখ ছবি আঁকা রচনা

আগের এক টপিকে আমরা শখ নিয়ে আলোচনা করেছি। বিভিন্ন মানুষের শখ বিভিন্ন হতে পারে। এই টপিকে আমার প্রিয় শখ ছবি আঁকা রচনা নিয়ে কথা বলবো। ছাত্রছাত্রীদের যদি এই ধরনের রচনা লিখতে হয়, তাহলে তাদেরকে বলবো যে কোন একটা সাইট থেকে পড়ে পুরোটা মুখস্থ না করে বরং অনেকগুলো সাইট থেকে পড়ে আইডিয়া গুলো মুখস্থ করতে। এতে তোমরা তোমাদের কাল্পনিক শক্তির বিকাশ ঘটাতে পারবে।

আর যদি কেউ এখানে থাকেন যারা মোটিভেশনের জন্যও ছবি আঁকা শখ টিকে পছন্দ করে নিয়েছেন, তাহলে তাদের জন্যও রাখবো –কিভাবে আপনি নিজেকে এবং অন্যদের কে ছবি আঁকাতে মোটিভেশন করবেন এবং নিজেও মোটিভেটেড হবেন।

শখ কি, কি কি ধরনের শখ হয়ে থাকে, শখ এর প্রয়োজনীয়তা কি –এইসব কিছু জানতে নীচের লিঙ্কে ক্লিক করুন।

এরপর শুরু করবো আমার প্রিয় শখ- ছবি আঁকা রচনা। আর শেষে রাখবো ছবি আঁকা শখ থেকে কিভাবে মোটিভেটেড হবেন?

আমার প্রিয় শখ ছবি আঁকা

আমার প্রিয় শখ ছবি আঁকা কেন?

যখন কিছু ভালো লাগে না, জানি না কেন মন কেমন উদাস হয়ে যায়; সেইসময়ে ছবি আঁকতে বসলেই ভালো না লাগা মন কখন যেন ভালো লাগার সমুদ্রে নিমজ্জিত হয়ে যায়। প্রকৃতি যেমন ক্ষণে ক্ষণে রূপ বদলায়, আমার মন ও কেমন বদলে যাই। আর বদলে যাওয়াই তো জীবন। থেমে থাকাই তো মরণ।

তাই আমি আমার মনের রূপ বদল দেখে ভয় পাই না।  সময়ের সাথে সাথে সব কিছু বদলায়। এমন কি আমার শখ ও বদলে যায়।

যখন বাড়ীতে আমি একা। বর্ষার দিন। দুপুরবেলা। বাইরে বন্ধুদের সাথে খেলতে যেতে পারছি না। তখন আমি ড্রয়িং খাতা আর পেন্সিল নিয়ে বসে পড়ি। বসে পড়া মাত্র মনের সব ক্লান্তি এক নিমেষে উধাও হয়ে যায়।

আমার প্রিয় শখ ছবি আঁকা কেন সেইসব কারনগুলো হলঃ

১। সময় কাটানোর সবচে ভালো উপায়

অলস মস্তিষ্ক শয়তানের কারখানা। সেইজন্যই তো যখনই ফাঁকা সময় পাই, তখনই ছবি আঁকতে বসে যাই। ছবি আঁকতে বসলেই কখন যে সময় কিভাবে পেরিয়ে যায়, টের পাই না।

২। মনকে ভালো কাজে ব্যস্ত রাখা

বেশীরভাগ সময়েই মন নানান রকমের উল্টোপাল্টা চিন্তায় মশগুল থাকে। কিন্তু যখন ছবি আঁকতে বসি, তখন মন ও আমার সাথে ব্যস্ত হয়ে পড়ে, ভাবতে থাকে পরের স্টেপ্স গুলো আমি কি আঁকবো। বেশ মজা লাগে- মনে হয় দুষ্টু মন যেন সুন্দর শিক্ষার্থী হয়ে উঠেছে।

৩। ছবি আঁকা শখ রোজগারের এক মাধ্যম

ছোটোবেলা থেকে বরাবরই শখ ছিল যে আমি নিজের খরচ নিজের অর্জিত টাকা থেকে করবো আর এইভাবে বাবা মা কে সাহায্য করবো। ছোটো ছোটো বাচ্চাদের যখন ছবি আঁকতে শেখাই,তখন আমি খুব গর্বিত অনুভব করি । আর এই ছবি আঁকা থেকে প্রথম রোজগারের টাকা যখন বাবা মা এর হাতে তুলে দিয়েছিলাম তখন যে কি আনন্দ পেয়েছিলাম বলে বোঝাতে পারবো না। খুব ভালো লাগে এই ভেবে যে কিছুটা হলেও বাবা মা কে সাহায্য করতে পারছি।

৪। মন ভালো করতে ছবি আঁকুন

কখনো কখনো খুব মন খারাপ করে। ইচ্ছে করে না কারো সাথে কথা বলতে। ইচ্ছে করে না পড়াশুনো করতে। সেই সময় গুলোতে বরাবরই আমার ড্রয়িং কপি আর পেন্সিলগুলো আমাকে খুব ডাকে। ওরা এতোই ডাকে যে আমি ওদের অবহেলা করতে পারি না। ওদের কে আমার কাছে নিয়ে বসে পড়ি। ওরা তখন আমায় বলতে থাকে – এই মেয়েটা রুমের জানালা টা খোল। আর আমি কেন জানি না ওরা যা বলে তাই করি।

ওদের কথামতো জানালা খুলে দিই। তারপর ওরা বলে – দেখতে পাচ্ছিস ওই প্রজাপতিটা কেমন ওই ফুলের ওপর বসে আছে। আঁক তো দেখি । আবার কোনদিন বলে- এই মেয়েটা ওই পাখিটা গাছের ডালে বসে কি খাচ্ছে রে। খুব সুন্দর করে আঁকবি, কি খাচ্ছে যেন বুঝতে পারি।

এইভাবেই একদিন বলেছিল- “ দেখ, মুষলধারে বৃষ্টি হবে বোধ হয়, তাই তো প্রকৃতির এই রূপ। এই রূপ কে ধরে রাখ তো আমার পাতায়। “

সেইদিন প্রকৃতির ওই রূপ আঁকার পর আমি নিজেই নিজের আঁকাকে চিনতে পারি নি।

ড্রইং কপি আর পেন্সিল আমার কাছে ভালবাসার একজন।

৫। ছবি আঁকা বুদ্ধির বিকাশে সাহায্য করে

যখন কেউ কোন জটিল ছবি আমায় আঁকতে দেয়, আমি তখন মন কে শক্ত কাজ দিই। বলি – তোকে পারতেই হবে। কিরকম ডিজাইন করবো, তুই আমায় বলবি। তুই ভাব। এই বলে মন কে ব্যস্ততার মধ্যে ডুবিয়ে রাখি। মন তখন খুব মজা পেয়ে যায়।

আমার মন তখন দিন রাত ভাবতে থাকে কি ডিজাইন করলে তা সবার নজর কাড়বে। দু একদিন ভাবার পর এক অভিনব ডিজাইন আবিষ্কার করে সবার মন জয় করে ফেলি আমরা- আমি আর আমার মন।

এইভাবে চলতে চলতে আজ আমি অনুভব করি যে প্রথম যখন ছবি আঁকা শেখা শুরু করেছিলাম তার সাথে আজকের আমার আকাশ পাতাল পার্থক্য। আজ আমি সহজেই নতুন নতুন ডিজাইন আঁকতে পারি, নিজের ইচ্ছে মতো কল্পনা করে আঁকতে পারি। এইভাবেই  আমি আমার বুদ্ধির বিকাশ ঘটাতে পেরেছি।

ছবি আঁকা থেকে মোটিভেশন

আমার মনে হয় যারা ছবিআঁকতে ভালোবাসে তাদের সহজে মন খারাপ হয় না। কারন তারা পুরো প্রকৃতি কেই নিজের দুই চোখের মধ্যে ধরে রাখতে জানে। তাদের চোখ দুটো দেখতে গভীর না হলেও আসলে কিন্তু ভালোই গভীর হয়। তাদের মনের চোখ বেশ দূরদর্শী হয়।

তারা সুখ, দুঃখ, হাসি, কান্না সব কিছুই চোখের মধ্যে, কল্পনার মধ্যে গেঁথে রাখতে পারে। আঁকতে আঁকতে তারা বুঝতে পারে- কান্না পেলে বা মন খারাপ হলে মুখের কোন জায়গার পরিবর্তন ঘটাতে হবে। দুই ঠোঁটে অট্টহাস্য নিয়ে আসতে হলে কি রকম পরিবর্তন করতে হবে- এই সব কিছুই তারা জানে। খাতাতে যখন তারা এইসব কিছুতে ওস্তাদ, তখন জীবনের খাতায় কেনই বা নয়?

আপনি যদি ছবি আঁকতে ভালবাসেন, লেগে থাকুন এই কাজে, এই শখে। আমি নিশ্চিত – আপনি যদি ছবি আঁকা কে ভালবাসেন; এই ছবি আঁকাই আপনাকে একদিন অনেক কিছু দেবে, আপনার মন হাসিখুশি তে ভরিয়ে রাখবে। খুব কষ্টের মধ্যেও কিভাবে ঠোঁটের কোনায় হাসি আগলে রাখতে হয়, এই ছবি আঁকাই আপনাকে শিখিয়ে দেবে। আপনি শুধু মন প্রান ভরে ছবি আঁকাকে ভালোবেসে যান।

উপসংহার

আমার প্রিয় শখ ছবি আঁকা সত্যিই আমার হৃদয়ের বন্ধু। আমার সুখে দুঃখে সবসময় আমার পাশে থাকে এমনই এক বন্ধু। ড্রইং কপি এবং পেন্সিল –এরা আমার এমনই বন্ধু যে আমার মন খারাপ দূর করতে পারে সহজেই। এরাই আমার মাথায় নিয়ে আসে নতুন নতুন আইডিয়া। এদের জন্যই আজ আমি সবসময় হাসি মুখে থাকতে পারি।

আশা রাখি যে আমার প্রিয় শখ ছবি আঁকা রচনা টি তোমাদের ভালো লেগেছে। আর যারা ছবি আঁকা কে পেশা বা শখ হিসেবে দেখতে চান তাদের উদ্দ্যেশে বলবো – আশা করি আপনাদেরকে কিছুটা হলেও মোটিভেটেড করতে পেরেছি। সুস্থ থাকুন, ভালো থাকুন, সবাইকে ভালো রাখুন। চলুন, সবাই মিলে একসাথে এক সুন্দর পৃথিবী গড়ে তুলি। এই পৃথিবীর প্রতিটি কোনা ভরে উঠুক ঈশ্বরের আশীর্বাদে!  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাম্প্রতিক পোস্ট