কিভাবে প্রার্থনা করতে হয়?

পবিত্র স্থানে পবিত্র মনে প্রার্থনা করা দরকার। প্রার্থনার বেশ বড় রকমের মূল্য আছে আমাদের জীবনে। যেমন আশীর্বাদ এর অনেক মূল্য আছে ঠিক তেমনি প্রার্থনা এরও অনেক মূল্য আছে। কিন্তু পবিত্র মনে পবিত্র প্রার্থনা মন থেকে ঈশ্বরের সামনে নিবেদন করতে পারলে, তার আশানুরূপ ফল অবশ্যই পাওয়া যায়।

যেমন ধরো – এই পরিস্থিতিতে আমাদের সকলের ই একমাত্র প্রার্থনা হওয়া উচিত এরকম –

“ হে ঈশ্বর/ হে আল্লাহ/ হে ভগবান/ হে জেসাস – তোমার পৃথিবী আজ ভাইরাস এ আক্রান্ত। মুক্ত করো এই পৃথিবীকে ভাইরাস এর হাত থেকে, হে অসীম শক্তি! এই ভাইরাস এর জন্য বাড়ছে বেকারত্ব, বাড়ছে মানুষের মনে আতঙ্ক, জীবন হয়ে উঠেছে বিভীষিকা। হে সৃষ্টিকর্তা! রক্ষা করো তোমারই সৃষ্ট এই পৃথিবীকে। “

প্রতিটি মানুষ যদি ঘরে ঘরে এই টুকু প্রার্থনাই করতো, তাহলে আমরা হয়তো এতদিনে ভাইরাস থেকে মুক্তি পেয়ে যেতাম, সুন্দর পৃথিবীর স্বাদ আবার গ্রহন করতাম। প্রার্থনার এতোটাই জোর।

প্রার্থনা কি?

প্রার্থনা একটা সংযোগের মাধ্যম। প্রার্থনার মাধ্যমে আমরা আমাদের সৃষ্টিকর্তার সাথে সংযোগ স্থাপন করতে পারি। সৃষ্টিকর্তার সাথে কথোপকথন কেই প্রার্থনা বলে।

প্রার্থনা মানে কখনোই নিজের স্বার্থে চাওয়া হতে পারে না। এক বৃহৎ স্বার্থে ঈশ্বরের সাথে যোগাযোগ কেই প্রার্থনা বলে।

প্রার্থনা কখন এবং কিভাবে করা উচিত

প্রার্থনা প্রত্যহ ঘুম থেকে উঠে এবং ঘুমোতে যাওয়ার আগে করা উচিত। প্রার্থনা একান্তে নিভৃতে করতে পারলেই সেই কথোপকথন গভীর এবং সফল হয়ে থাকে।

রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় পাশে মন্দির দেখে হাত খানা কপালে ও মাথায় ঠেকিয়ে দিলেই তা প্রার্থনা হয় না। মন্দিরে প্রচুর লোকের ভিড়ে ফিস ফিস করে অনেক কিছু চাইলে তা প্রার্থনা হয় না।

ভক্তি ছাড়া, হৃদয়ের অনুভূতি ছাড়া মন্ত্র উচ্চারন করলেই প্রার্থনা হয় না।

প্রার্থনা সবসময় কৃতজ্ঞতা স্বীকার দিয়েই শুরু করতে হয়। ঈশ্বর বিশ্বাসে এক জলবিন্দুর ন্যায় সন্দেহও যদি থেকে থাকে, তাহলে সেই প্রার্থনা সফলতার রূপ পায় না।

হে ভগবান! আমাকে বাড়ী দাও, গাড়ী দাও, টাকা দাও- এইসব চাহিদা কখনোই প্রার্থনা হতে পারে না। প্রার্থনা এই তুচ্ছ চাহিদার অনেক অনেক ওপরে।

তাহলে দেখে নেওয়া যাক কি কি প্রার্থনা করা উচিতঃ

কি কি প্রার্থনা করা উচিত

সমাজের জন্য প্রার্থনা করো

ধরে নাও- তুমি শুধু তোমার জন্য প্রার্থনা করলে। তোমার ভালো, তোমার পরিবারের ভালোর জন্য প্রার্থনা করলে। ঈশ্বর তা পূর্ণ করলেন। কিন্তু যে সমাজে তুমি বাস করো, সেই সমাজে ফসল নেই, চারিদিকে হাহাকার, সব মানুষ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে। এমতাবস্থায়, পারবে তুমি শুধু মাত্র তোমার পরিবার কে নিয়ে ভালো থাকতে?

আমরা সকলেই মিলে একটা চেন তৈরি করি। আরি সেই চেন টাকেই আমরা সমাজ বলে থাকি। আমরা সকল পরিবারই একে অন্যের সাথে কোন না কোন ভাবে নির্ভরশীল। তাই উল্টে তুমি যদি এমন প্রার্থনা করো যে – হে ঈশ্বর, তোমার সৃষ্টি এই সমাজ কে তুমি ভালো রেখো। সমাজের মঙ্গল করো।

এই রকম প্রার্থনা করলে কি হবে? সমাজ ভালো থাকবে। সমাজ ভালো থাকলে- সমাজে প্রচুর চাকরি থাকবে, প্রচুর ফসল, খাদ্য থাকবে। সমাজ খুশী, মানে সমগ্র পরিবার খুশী। আর এই সমাজেরই তো অংশ তুমি। তাই তুমি বা তোমরাও খুশী থাকবে।

জ্ঞানের জন্য প্রার্থনা করো

যদি তুমি নিজের জন্য কিছু প্রার্থনা করতে চাও, তাহলে জ্ঞানের জন্য প্রার্থনা করো। জ্ঞান ই সর্বশ্রেষ্ঠ। আর অজ্ঞতাই পাপ। হে ঈশ্বর, আমাকে জ্ঞান আহরনে সাহায্য করো।

এই প্রার্থনাই শ্রেষ্ঠ। তুমি নিজে যখন জ্ঞানী হবে, তুমি সেই জ্ঞান ছড়িয়ে দিতে পারবে সমাজের মধ্যে। সমাজ জ্ঞানী হয়ে উঠবে আর তার মানেই সমগ্র পরিবার জ্ঞানী হয়ে উঠবে।

নিষ্কাম কর্ম এর জন্য প্রয়াস করো

কর্ম করে যাও, ফলের আশা করো না। এটাই তো মহাভারতের সার কথা। কর্ম ফলের কথা না ভেবেই তো অর্জুন কে যুদ্ধ করতে হয়েছিল, কারন তা সমাজের জন্য মঙ্গল ছিল। যারা নিষ্কাম কর্ম করে যায়, তারা জ্ঞানের পথেই চলে থাকেন। আবার যারা জ্ঞানী, তারা কখনোই বাজে কর্মে লিপ্ত হতেই পারেন না।

নিজেকে সঁপে দাও সৃষ্টিকর্তার কাছে

তুমি যদি মন থেকে ইচ্ছা রাখো যে তুমি সঠিক পথে চলবে আর এই প্রার্থনাই যদি ঈশ্বরের কাছে রাখো; তবে তা একদিন সফল হবেই – তা নিশ্চিত। শুধু প্রয়োজন কিছুটা সময়ের, কিছুটা প্রতীক্ষার।

কর্মফলের প্রত্যাশা নিয়ে প্রার্থনা করো না

হে ঈশ্বর! আমায় প্রচুর টাকা দাও, আমি যেন প্রচুর বড় একটা বাড়ী বানাতে পারি।

না, এইসব নিয়ে কখনো প্রার্থনা করো না। মনে জোর থাকলে আর এইরকম প্রার্থনা করার সাথে সাথে পরিশ্রম করলে, হয়তো তা সফল হয়ে যাবে একদিন, কারন ঈশ্বর প্রার্থনা শোনেন। কিন্তু এই রকম প্রার্থনা পূর্ণ হওয়ার সাথে সাথে আরও অনেক কিছুর প্রাপ্তি ঘটতে পারে- যেমন অসুখ, নানান রকম ঝঞ্ঝাত-ঝামেলা কিম্বা হয়তো মনে অহঙ্কার জন্ম নিতে পারে।

আর এই অহংকারই ডেকে আনতে পারে বিনাশ।

সবসময় নিজের কথা ভেবে প্রার্থনা করো না

তুমি যদি একা ভালো থাকো, কিন্তু তোমার চারপাশে বা তোমার পরিবারের বাকীরা যদি ভালো না থাকে; তাহলে কি তুমি পারবে ভালো থাকতে?

যখন তোমার চারিপাশে সকলে ভালো থাকবে, দেখবে তোমার কিছু সমস্যা হলে অনেকেই ছুটে আসছে কারন তারা তো ভালো আছে। আর যেহেতু তোমার বাজে সময়ে বাকীরা সবাই তোমার পাশেই থাকছে তাই তুমি ও খুব শীঘ্রই ভালো থাকতে শুরু করে দেবে।

ভেবে চিন্তে প্রার্থনা করো

যদি তুমি কোন কারনে চিন্তিত আছো, কিম্বা দ্বিধাগ্রস্ত মুডে আছো, এই পরিস্থিতিতে হড়বড়িয়ে কিছু প্রার্থনা না করাই ভালো। প্রার্থনা করার আগে মন কে শান্ত করো। ধীর স্থির চিত্তে প্রার্থনা করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

চলো, সবাই মিলে পবিত্র মন নিয়ে প্রত্যহ সকাল আর সন্ধ্যেবেলাতে নিজের বাড়ীতেই প্রার্থনা করি। প্রার্থনা করা যাক এই পৃথিবীর সুস্থতার জন্য। প্রার্থনা করা যাক বেকারত্ব, দারিদ্র্য নির্মূল করার জন্য, প্রার্থনা করা যাক পৃথিবীর একজন সদস্যও যেন আত্মহত্যা না করে তার জন্য, প্রার্থনা করা যাক এক সুন্দর সাস্থ্যবান পৃথিবীর জন্য।

আশা করি আমি বোঝাতে পেরেছি যে কিভাবে প্রার্থনা করতে হয়, প্রার্থনা কি, কি কি প্রার্থনা করা উচিত। পোস্টটি ভালো লেগে থাকলে কমেন্ট করে জানাতে ভুলো না যেন। ভালো থেকো, সুস্থ থেকো, সব্বাইকে ভালো রাখো। এই পৃথিবীর প্রতিটি কোনা ভরে উঠুক ঈশ্বরের আশীর্বাদে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাম্প্রতিক পোস্ট