নিজেকে মোটিভেট করার উপায় গুলো কি কি?

নিজেকে মোটিভেট করার উপায়

আপনি কি বুঝতে পারেন যে আপনি ডিমটিভেটেড হয়ে যাচ্ছেন, আপনার মোটিভেশন এর প্রয়োজন? আপনি যদি এটা প্রকৃতভাবেই বুঝতে পেরেছেন, তাহলে জেনে রাখুন যে আপনার মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে সেই অসীম ক্ষমতা যা দিয়ে আপনি নিজেই নিজেকে মোটিভেট করতে পারবেন। তাহলে জেনে নিন নিজেকে মোটিভেট করার উপায়গুলো কি কি।

নিজেকে মোটিভেট করার উপায় গুলো কি কি

হতাশ হয়ে পড়েন , বুঝতে পারেন না কি করবেন, তাই তো? কাউন্সিলিং তো করিয়েছেন, কিন্তু তাও নিজে নিজেকে বোঝাতে পারেন না? এমন টা কি হয় আপনার সাথে? প্রতিটি মানুষের মন আলাদা, আর সেই কারনেই তাকে ভাল রাখার উপায় ও আলাদা। আর এই মন কে আপনিই ভাল করে বুঝতে পারবেন। তাই এই আর্টিকেল টি পড়ুন আর হয়ে উঠুন নিজেই নিজের কাউন্সিলার।

আপনার মনের খুঁটিনাটি সব ব্যাপার গুলো কিন্তু আপনিই সবচে ভাল জানেন। এটা আপনি মানেন তো? অন্য একজন ততটুকুই জানবে যতটুকু আপনি বলবেন। তবে বড় বড় কাউন্সিলাররা এটা বুঝে যাবেন যে আপনি কিছু লুকচ্ছেন। সেই লুকনো তথ্যের ব্যাপারে অনুমান করতে পারবেন কিন্তু ১০০% ঠিক বলতে পারবেন না যদি না আপনি ঠিক করে বলেন।

আপনার মন আপনার সাথেই থাকে। আপনার মনের বাস আপনার রক্তমাংসের শরীরের মধ্যেই। আপনার মনের ওঠানামা এবং কি কারনে সেই ওঠা নামা সেই সব কিছুর তথ্য কিন্তু আপনার কাছেই আছে। আর সেই কারনেই আপনার মন কিসে ভাল হবে, কিসে মোটিভেটেড হবে সেই ব্যাপারে আপনিই ভাল জানেন।

তাহলে সমস্যা টা কোথায়? কেন আপনি নিজে নিজেকে মোটিভেটেড করতে পারেন না? এই কারণ টি কি জানেন? এর প্রধান কারণ হল পরিবেশ। আর পরিবেশ থেকে প্রাপ্ত তথ্যগুলো আপনি খুব যত্ন সহকারে মনের মধ্যে রেখে দেন। আর সেটা রাখেন কিভাবে জানেন? নিয়মিত চর্চা করে।

ধরুন –ছোটবেলাতে আপনার মা আপনাকে প্রায়ই বলতেন, “ তোর দ্বারা কিছু হবে না।“ আপনি তখন ওই কথাটি অনেকবার মনে মনে ভেবেছেন। কিন্তু আপনার ওই একই মা যখন আপনাকে ১২ এর টেবিল শিখিয়েছিল, আপনি কিন্তু সেটা নিয়ে একবার ও নিজে থেকে ভাবেন নি। আর এই কারনেই আপনি ১২ এর টেবিল ভুলে যান, আর “ নিজের দ্বারা কিছু হবে না” এটাকে চারা গাছের মতো করে যত্ন নিয়ে একদিন এক বড় বৃক্ষে রূপ দেন।

তাহলে এর উপায় কি ? কেনই বা নেগেটিভ জিনিষ আমাদের মাথায় বেশী ফ্ল্যাশ ব্যাক করে? কেন পজিটিভ জিনিষ গুলো অনায়াসেই মনে আসে না? এই নিয়েও একটা উদাহরন দেওয়া যাক। আর তার আগে আপনি বলুন তো – কোন কাজ টা বেশী সহজ- একটা মূর্তি তৈরি করা নাকি একটা মূর্তি কে ভাঙ্গা?

প্রতিটি মানুষের কাছেই মূর্তি ভাঙ্গা কাজটি বেশী সহজ, এই কাজের জন্য কোন ট্রেনিং এর দরকার হয় না। আর এই কাজ সবাই পারে, কিন্তু করে না সেই ব্যাপার টা আলাদা। এরপর সেই উদাহরনে আসা যাক- আমরা কি সত্যিই অক্সিজেন ইনহেল করি? নাকি আমরা বাতাস ইনহেল করি? আপনি কি পারবেন বাতাস থেকে অক্সিজেন কে ফিল্টার করে ইনহেল করতে? পারবেন না তো?

বাতাস থেকে অক্সিজেন ইনহেল করতে হলে আপনাকে ডিপ ব্রিদিং করতে হবে। যে কোন ভাল কাজ করতে হলে বাইরে থেকে একটা বল প্রয়োগ করতে হয়। ঠিক সেইরকম ভাবেই আপনি যদি নিজেই নিজেকে মোটিভেট করতে চান, তাহলেও প্রথম দিকে আপনাকে বেশ ধ্যান দিতে হবে এই ব্যাপারে, বেশ কিছুটা সময় দিতে হবে এই কাজের জন্য।

চলুন তাহলে আর আপনাদের সময় নষ্ট না করে দেখে নেওয়া যাক নিজেই নিজেকে মোটিভেট করার উপায়গুলো কি কি। 

নিজেকে মোটিভেট করার উপায়গুলো কি কি?

আপনি কি সত্যিই চান নিজেকে মোটিভেট করতে? তাহলে আজ থেকেই লেগে পড়ুন। নীচে লিখা উপায়গুলো নিয়মিত ফলো করুন আর ঠিক ১ মাস পরে আমাকে কমেন্ট করে জানান আপনার মধ্যে কোন পরিবর্তন এল কিনা।

মিরার ওয়ার্ক ( Mirror Work)

প্রত্যহ সকালে ঘুম থেকে উঠে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেই নিজেকে কিছু ভাল কাথা বলুন, নিজের প্রশংসা করুন। আর কি কি বলবেন সেই সব কথাগুলো কোথাও লিখে রাখুন।

পজিটিভ বাক্য- ৩ থেকে ৪ লাইন। সময় – ২ -৩ মিনিট। কিভাবে মিরর ওয়ার্ক করবেন দেখতে নীচের ভিডিও টি দেখুন।

মিরর ওয়ার্ক

রিলাক্সেসন থেরাপি

মিরার ওয়ার্ক এর পরে নিজেই নিজেকে রিলাক্স করুন। প্রথমে একটা রুমে যান যেখানে কিছুটা সময় আপনি নিজে একা কাটাতে পারবেন। বিছানা তে না শুয়ে , মেঝেতে একটা কার্পেট বা ম্যাট বিছিয়ে শুয়ে পড়ুন। হাত আর পা দুটো শরীর থেকে একটু দূরে মেলে রাখুন। চোখ দুটো বন্ধ করুন ধীরে ধীরে।

চোখ বা কপালের ওপর যেন চাপ না পড়ে সেদিকে খেয়াল রাখুন। শরীর কে পুরো হাল্কা ছেড়ে দিন।

এরপরে জোরে শ্বাস নিন, সামান্য একটুক্ষণ শ্বাস কে ধরে রাখুন, তারপরে ধীরে ধীরে শ্বাস ছাড়ুন। এইভাবে ২-৩ মিনিট চালিয়ে যান। তারপরে ধীরে ধীরে জোরে শ্বাস নেওয়ার বদলে, প্রাকৃতিক ভাবে যে শ্বাস প্রশ্বাস চলে, তার আওয়াজ কে ফলো করুন।

যদি মন অন্যদিকে চলে যায়, তাহলে মনে মনে বলুন – আমি রিলাক্সড, এই শরীর আর মন আমি নয়। কিন্তু এরা আমার। তাই এদের দায়িত্ত্ব নেওয়া আমার কর্তব্য।

এরপর মন কে যখন বেঁধে রাখতে পারবেন, তখন আরেকটা স্টেপ এগিয়ে যেতে পারেন। আর যদি তা না পারেন, তাহলে আগে উল্লেখ করা বাক্যগুলোই বারে বারে বলতে থাকুন। আর সাথে সাথে শরীর কে হাল্কা ছেড়ে দিন। তারপরে ধীরে ধীরে চোখ খুলুন।

আর যদি মন আপনার বশে থাকে, তাহলে পায়ের আঙ্গুল থেকে মাথার চুল অবধি প্রতিটি অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দর্শন করুন, মনে মনে, চোখ বন্ধ অবস্থায়। আপনি লক্ষ্য করবেন যে আপনার হাত-পা সব কিছু ধীরে ধীরে অবশ হয়ে যাচ্ছে, আপনি চাইলেও তাদেরকে নাড়াতে পারছেন না সহজে।

এর পরে কিছু এফারমেসন মনে মনে বলতে পারেন। যা বলবেন ভেবে চিন্তে বলবেন। এমন যেন না হয় আপনি এক ভেবে বললেন আর ইউনিভার্স এর কাছে অন্য কোন মেসেজ গেল।

এইসব কিছুর জন্য আমি পরে কোন ভিডিও আপলোড করবো।

সেলফ ট্ক

তারপরে ২-৩ মিনিট ধরে একটু নিজেই নিজেকে উপদেশ দিন, প্রয়োজন হলে বকা দিন, আর যদি এপ্রিসিএসেন এর দরকার, তাহলে তাই করুন।

ডাইরি লিখা

মাত্র ৫ মিনিট সময় দিন ডাইরি লিখাতে। সারা দিনের প্ল্যান লিখে ফেলুন। সব কাজ গুলোকে কম সময় দিয়ে বেঁধে দেবেন না, এমন কিছু লিখবেন না যা অর্জন করতে আপনি বারে বারে ব্যর্থ হতে পারেন।

যদি সেরকম হয়, তাহলে সেই কাজগুলো কে ছোট ছোট স্টেপ্স এ ভাগ করে নিন। আগে ওই প্রাথমিক স্টেপসগুলো তে সফলতা অর্জন করুন। তারপর ধীরে ধীরে জটিল স্টেপ্স এ যান।

যেটুকু আপনার ক্ষমতার মধ্যে সেটুকুই লিখুন। কিন্তু মনে রাখবেন নিজের ক্ষমতা কে ছোট করে দেখবেন না।

এক্সারসাইজ

এরপর ১০ মিনিট এক্সারসাইজ করুন। কি কি এক্সারসাইজ করবেন আর কিভাবে করবেন তা জানতে কোন যোগা টিচার এর সাহায্য নিন।

উপসংহার

সব মিলে প্রত্যহ সকালে ৩০-৪০ মিনিট সময় ব্যয় করুন। এই ৩০-৪০ মিনিট সময় আপনাকে সারাটা দিন সতেজ করে রাখবে। এরপর আপনিই ভেবে দেখুন সারাটা দিন নিজেকে চাঙ্গা রাখতে এই ৩০-৪০ মিনিট সময় নিজের সাথে কাটাবেন নাকি ওষুধের পেছনে টাকা খরচ করবেন নাকি অলসতায়, দুঃখে জীবন কাটিয়ে দেবেন, নাকি এলকোহলে ডুবে ফুস্ফুস কে কষ্ট দেবেন।

সিদ্ধান্ত আপনার। আপনি যদি চান নিজেকে ভাল রাখতে, তবেই আপনি ভাল রাখতে পারবেন। আর আপনি যদি না চান, তাহলে কিন্তু এই কাজ পৃথিবীর আর কেউই আপনার হয়ে করে দিতে পারবে না।

নিজেকে মোটিভেট করার উপায়গুলো কি কি জেনে নিয়ে এই মুহূর্ত থেকেও প্রয়োগ করে জীবন কে নতুন রূপ দিতে পারেন। সুস্থ থাকুন, ভালো থাকুন, সবাইকে ভালো রাখুন। চলুন, সবাই মিলে একসাথে এক সুন্দর পৃথিবী গড়ে তুলি। এই পৃথিবীর প্রতিটি কোনা ভরে উঠুক ঈশ্বরের আশীর্বাদে!

One thought on “নিজেকে মোটিভেট করার উপায় গুলো কি কি?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাম্প্রতিক পোস্ট