মেডিটেশন করার উপকারিতা গুলো কি কি?

কখনো কি আপনাকে এমন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে- যত্ন নেওয়ার উপকারিতা গুলো কি। হয় নি তো? কারন আপনি, আমি সব্বাই জানি যে জড় পদার্থেরও যদি যত্ন নেওয়া হয়, জিনিসটি বেশীদিন টিকসই হয়। “মেডিটেশন করার উপকারিতা গুলো কি কি” এই প্রশ্নটিতে আপনি ‘মেডিটেশন’ এর জায়গায় ‘নিজের শরীরের যত্ন’ বসিয়ে প্রশ্ন টিকে সাজান।

সহজ ভাষায় প্রশ্নটি হল- “নিজের শরীরের যত্ন নেওয়ার উপকারিতা গুলো কি কি”? আচ্ছা এমন প্রশ্ন যদি পৃথিবী করতে থাকে। ধরুন পৃথিবী বলছেন –“ আমি কেন সূর্যের চারিদিকে ঘুরবো?” কিন্তু পৃথিবীর কাছে তার উত্তর আছে। তাই পৃথিবী নিজের কাজে ফাঁকি দেয় না।

পৃথিবী জানে যে চলাই কর্ম। আর কর্মই ধর্ম। পৃথিবীর উদাহরন দিয়ে এইটুকু নিশ্চয় পরিষ্কার যে – মেডিটেশন করা আমাদের কর্তব্য।

কেন মেডিটেশন করা উচিত?

মেডিটেশন মানে নিজের শরীরের প্রতিটি কোষের সাথে সংযোগ স্থাপন। এই গ্রহ পৃথিবী সূর্য সবাই ঠিকঠাক ভাবে কাজ করছে বলে আপনি , আমি সকলেই সুস্থ আছি। এই ঈশ্বর শক্তি আমাদের প্রত্যেক এর খেয়াল রাখেন বলে আমরা সুস্থ আছি।

প্রতিটি ক্রিয়ারেই যেমন প্রতিক্রিয়া আছে, ঠিক তেমনি বাহিরের জগত যদি আমাদের খেয়াল রাখে, আমাদেরও উচিত অন্তরের জগতে প্রবেশ করে বাহিরের জগতকে অনুভব করে তাদের খেয়াল রাখা।

বাহিরের জগত এর কাছে আমাদের খেয়াল রাখা খুবই সহজ- তাই ভাবছেন তো? কিন্তু আমরা কি করে এই বিশাল বাহিরের জগতের খেয়াল রাখবো?

বাহিরের জগতে যা শক্তি আছে তার চেয়েও বেশি শক্তি আছে আপনার হৃদয়ে। শুধু পার্থক্য এটাই যে আপনি সেই শক্তিকে কাজে লাগান না। শক্তি এর মধ্যেও যদি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে সেই শক্তি তার রূপ বদলে নেয়; সেই শক্তি এমন এক রূপ নেয়- যে রুপে তার মধ্যে গতি থাকবে।

মেডিটেশন কি?

মেডিটেশন হল একটা উপায় যা দিয়ে আপনার সাথে আপনার শরীরের ভেতরে যে মন্দির রয়েছে, যেখানে এক বিশাল মহাকাশ যা অসংখ্য কোষ এ ভরপুর তাদের সাথে সংযোগ স্থাপন করে তাদেরকে শক্তিমান করে তুলতে পারেন।

মেডিটেশন এক ধরনের মনের ব্যায়াম। মন ভাল থাকলে শরীরের তুচ্ছ সমস্যাগুলো সমস্যাই মনে হয় না- এই কথা নতুন করে ব্যাখ্যা করার দরকার নেই।

দুটো কোষের মিলনে একটা প্রানের সৃষ্টি হয়। কই, পৃথিবী বা অন্য কোন গ্রহ কি প্রানের সৃষ্টি করতে পারে? কিন্তু মানুশের কাছে সেই ক্ষমতা রয়েছে মানে বুঝতেই পারছেন এক একটা কোষের কি বিশাল ক্ষমতা।

আর এই ক্ষমতাগুলো সম্পর্কেই আমরা এখানে আলোচনা করবো। সারা বিশ্ব “মেডিটেশন করার উপকারিতা গুলো “ নিয়ে গবেষণায় মেতে উঠেছে। রামায়ন, মহাভারতে এর মতো পুরান কাহিনীতে এই মেডিটেশন করার উপকারিতা চোখেও পড়েছে।

তবে কেউ কেউ তা বিশ্বাস করে থাকে আর কেউ কেউ তা গল্প বলে উড়িয়ে দেয়।

মেডিটেশন করার উপকারিতা গুলো কি কি

দেখে নিন মেডিটেশন করার উপকারিতা গুলো কি কি।

মেডিটেশন করার উপকারিতা গুলো
মেডিটেশন করার উপকারিতা গুলো কি কি

সুস্থ মন

শুধু জিমনাস্টিক এর মতো শারীরিক ব্যায়াম করলেই কি হবে? শরীরের মধ্যে মন সতেজ আছে বলেই তো আমরা মৃত মানুষের থেকে আলাদা।

মেডিটেশন হল মনের জিমনাস্টিক।

টেনশন থেকে মুক্তি পেতে মেডিটেশন

যে কোন ব্যাপারেই প্রচুর টেনশন করেন? তাহলে রেগুলার নিয়ম মতো মেডিটেশন করুন মানে একটা কিছুটা সময় মনের আওয়াজ শুনুন। মন কে স্থিরতা দিন।

অত্যধিক রেগে যাওয়া থেকে মুক্তি

আপনি কি খুব রেগে যান, আর তাও আবার বিনা কারনেই? তাহলে মেডিটেশনই আপনার ওষুধ। পরীক্ষা করে দেখতে পারেন। তবে সঠিক নিয়মে করবেন।

মেচিউরিটি প্রাপ্তি

বছরের পর বছর মেডিটেশন করতে থাকলে, আপনি মেচিউরিটি অর্জন করবেন। এতে আপনার নিজের সম্পর্কে সচেতনতা বাড়বে। আর আপনার বয়স কমতে থাকবে।

ক্ষমা করে দেওয়ার গুন

মেচিউরিটি প্রাপ্তি হলে আপনি সহজেই সবাইকে ক্ষমা করে দিতে পারবেন। ছোট ছোট কারনে বিচলিত হবেন না।

সাহসী মন

মেডিটেশন এর ফলে মেচিউরিটি প্রাপ্তি হওয়াতে , যে কোন সমস্যার মোকাবিলা সহজেই করতে পারবেন। মন হয়ে উঠবে নির্ভীক, সাহসী। দুর্বলতা দূর হয়ে যাবে মন থেকে।

মেডিটেশন করার নিয়ম গুলো কি কি

দেখে নেওয়া যাক মেডিটেশন করার নিয়ম গুলো কি কি।

সময়

সকালবেলা কিংবা রাত্রেবেলা মেডিটেশন করতে পারলে ভালো। দিনের শুরুতে কিংবা দিনের শেষে মেডিটেশন করাই ভালো। তবে এইরকম কোন ফিক্সড কোন সময় নেই।

আপনার যখন ইচ্ছে করবে তখনই করতে পারেন। তবে চেষ্টা করবেন প্রত্যহ একই সময়ে মেডিটেশন করার।  

পরিবেশ

যে কোন কাজেই পরিবেশ খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আর সেই পরিবেশ আপনিই তৈরি করুন। প্রত্যহ সন্ধ্যেবেলা বাড়ীতে যখন আপনি ধূপ ধুনা জ্বালান, ঠাকুর কে প্রনাম করেন; ঠিক তারপরে আসন পেতে বসুন।

বাড়ীর সকলকে নিয়ে বসুন। মাত্র ১০ মিনিটের জন্য বসুন। প্রথমদিকে বাড়ীর সকল সদস্যকে জাস্ট ৫ মিনিটের জন্য বসতে বলুন। অভ্যাস হয়ে গেলে পর, ৫ মিনিট টা ১০ মিনিট করুন।

আপনিই পারেন এই পরিবেশ তৈরি করতে।

পোসচার (বসার সঠিক নিয়ম)

প্রত্যেকের নিজস্ব আসন থাকবে। বসার সময় আপনার বডি পোসচারের দিকে খেয়াল রাখুন। সোজা হয়ে বসুন। আপনি যেভাবে হাত দুখানা রাখতে আরাম অনুভব করেন, সেইভাবেই রাখুন।

সবসময় বসেই করতে হবে, তারও মানে নেই। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়েও মেডিটেশন করা যায়। তবে সবার জন্য টা প্রযোজ্য নয়। বিশেষ করে যাদের মাথা ঘোরায় বা প্রেসারের রোগী, তাদের বসে করাই ভালো।

মেডিটেশন শেষ করার নিয়ম

হুট করে আসন থেকে উঠে পড়বেন না। ধীরে ধীরে আগের পোসচারে ফিরে আসুন। তারপরে দাড়াবেন।

মেডিটেশনের ক্ষতিকর দিক

সব জিনিষেরই ক্ষতিকর দিক থাকে যদি তা বাজেভাবে ব্যবহার করবো।

একই রকম ভাবে মেডিটেশনেরও কিছু ক্ষতিকর দিক আছে-

সন্দেহ

সন্দেহবাতিক মন কখনই ভাল ফল নিয়ে আসে না। তাই মেডিটেশন করলে পূর্ণ বিশ্বাস নিয়ে শুরু করুন। আগে মনের মধ্যে পজিটিভ শক্তির দ্বীপ জ্বালান, আর মন কে আলোকিত করুন। তারপর মেডিটেশন শুরু করুন।

মেডিটেশনের সময়ে দুই রকমের চিন্তা

মেডিটেশনের সময়ে যদি নেগেটিভ চিন্তা করেন, তাহলে আপনার জীবনে তা ক্ষতি ডেকে নিয়ে আসবে। তবে সময়ের সাথে সাথে যদি নেগেটিভ চিন্তাগুলোকে সব পজিটিভে পরিবর্তিত করতে পারেন, তাহলে আর কোন সমস্যা থাকবে না।

মেডিটেশন হল একটা উপায় যার মাধ্যমে আমরা মনের মধ্যে দৃঢ়তা আনতে পারি, কিছুটা হলেও ভবিষ্যৎ আন্দাজ করতে পারি। কি করা উচিত আর কি করা উচিত নয়- সেইসবের সঠিক মূল্যায়ন করতে পারি।

তাই মনের মধ্যে মেডিটেশনের সময়ে নেগেটিভ শক্তি কে আহ্বান করলে, মন নেগেটিভ শক্তি তে ভরে ওঠে। আর তখনই শুরু হয় সব সমস্যা।

যারা মেডিটেশনের সময়ে পজিটিভ শক্তি তে মজে থাকতে পারে না, তাদের মেডিটেশন না করাই ভাল। 

হটাত করে মেডিটেশন ছেড়ে দেওয়া

অনেকদিন ধরে জিমনাস্টিক করেছেন কখনো? তারপর হটাত করে একদিন ছেড়ে দিয়েছেন? আর এর ফলে কি আপনি খুব মোটা হয়ে গেছেন?

এই প্রশ্ন গুলো অনেকজন কে করলে, বিভিন্ন রকমের উত্তর পাবেন। কেউ কেউ সত্যিই খুব মোটা হয়ে গেছেন। আবার কেউ কেউ জিমনাস্টিক শুরু করার আগে যেমন ছিলেন সেইরকমই হয়ে গেছেন।

মেডিটেশনের ক্ষেত্রেও তাই। বিভিন্ন মানুষের ক্ষেত্রে বিভিন্ন রকমের পরিবর্তন দেখা দেবে। আপনার একটা নিজস্ব ধাঁচ আছে- সব দিকেই , যেমন ধরুন- স্বভাব, আচার আচরন।

মেডিটেশন ছেড়ে দিলে আপনি আপনার আগের অবস্থায় ফিরে আসবেন ঠিক ই। অনেকেই বলে থাকেন এতে মারাত্মক ক্ষতি হয়ে যাবে- এটা ভুল ধারনা। মারাত্মক ক্ষতি হওয়ার পিছনে অন্য আরো অনেক কিছুর প্রভাব থাকে, যেমন- আপনার কর্ম।

মেডিটেশন সবার জন্য নয়

আপনার পেশা যদি ব্যবসা করা হয়; আর সে এক এমন ব্যবসা যেখানে আপনার ক্রোধের প্রয়োজন- তাহলে মেডিটেশন আপনার জন্য নয়।

এই পুরো বিশ্ববাসী যদি সঠিকভাবে মেডিটেশন করতে থাকে, তাহলে কেউই প্রাণীজ প্রোটিন এর জন্য ছাগল বলি দিতে পারবে না। 

উপসংহার

মেডিটেশনের সময়ে নিজের চারিদিকে একটা ভারচুএল ডাস্টবিন তৈরি করুন। যা কিছু নেগেটিভ চিন্তা আসবে, সব ওই ডাস্টবিনে ফেলুন। খাবার খাওয়ার সময়েও খাবার থেকে আসা নেগেটিভ শক্তিকে ওই ডাস্টবিনে ফেলুন।

মেডিটেশনের মাধ্যমে এই ফিল্টার এর কাজে অভ্যস্ত হয়ে উঠুন।

শেষ করার আগে বলি- সব জিনিষেরই উপকারিতা ও অপকারিতা আছে। মেডিটেশন করার উপকারিতা গুলোর দিকে চোখ রেখে এগিয়ে যান।

সুস্থ থাকুন, ভালো থাকুন, সবাইকে ভালো রাখুন। চলুন, সবাই মিলে একসাথে এক সুন্দর পৃথিবী গড়ে তুলি। এই পৃথিবীর প্রতিটি কোনা ভরে উঠুক ঈশ্বরের আশীর্বাদে!  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাম্প্রতিক পোস্ট