ঈশ্বর কে? উনি কি সত্যই আছেন?

ঈশ্বর কে নিয়ে নানান প্রশ্ন আমাদের সকলের মধ্যে। প্রচুর গবেষণাও চলছে। মানুষের মনে বিশাল কৌতূহল- ঈশ্বর কেমন, কোথায় থাকেন, কিভাবে এই বিশাল সৃষ্টির রচনা করেছেন?

উনি কি এক আর অদ্বিতীয়া? তাহলে উনি এতগুলো ধর্মের সৃষ্টি করেছেন কেন? উনি কেন সহজে দেখা দেন না? এই সব কিছুর উত্তর দেবো সহজভাবে আর বিজ্ঞানকে পাশে রেখে।

ঈশ্বর অসীম
ঈশ্বর অনন্ত

ঈশ্বর কে?

এই কোটি কোটি ছায়াপথ এর শক্তি কে একত্রিত করলে যে শক্তিপুঞ্জ তৈরি হয় উনিই হলেন ঈশ্বর – এক পজিটিভ শক্তি। এর বিপরীত শক্তিই তো নেগেটিভ শক্তি।

প্রতিটি বস্তুর মধ্যে যেমন পজিটিভ চার্জ আর নেগেটিভ চার্জ দুইই বর্তমান; ঠিক তেমনি এই বিশাল সৃষ্টিতে এক অফুরন্ত পজিটিভ আর নেগেটিভ শক্তি বিরাজমান।

সেই পজিটিভ শক্তিই তো ভগবান, পরমেশ্বর।  আর এই নেগেটিভ শক্তি ঈশ্বরের উলটো দিকে কাজ করে থাকে।

ঈশ্বর যে মহান তা দৃঢ়ভাবে প্রমান করে এই নেগেটিভ শক্তিই।  

ঈশ্বরেরে অস্তিত্ব কি প্রমান করা যায়?

বাতাস যেমন দেখা যায় না কিন্তু অনুভব করা যায় ঠিক তেমনি ঈশ্বর কেও দেখা যায় না, অনুভব করা যায়।

বাতাসের মধ্যে যে অক্সিজেন থাকে সেই অক্সিজেনকেই আমাদের দরকার পড়ে। কিন্তু সেই অক্সিজেনকে কি আমরা চোখে দেখতে পাই?

অক্সিজেন একা না থাকায় আমাদের পুরো বাতাসে যা যা এলিমেন্ট থাকে সবই ইনহেল করতে হয়।

আর সেইসব কিছু ইনহেল করার পর, অক্সিজেন কে গ্রহন করে কার্বন-ডাই-অক্সাইডকে শরীর বার করে দেয়।

এইসব কিছু থেকেই ঈশ্বর সম্পর্কে জানা যায়।

আমাদের সুখের জন্য শুধুমাত্র ঈশ্বরের সান্নিধ্য দরকার পড়ে।

যেহেতু ঈশ্বরের সাথে নেগেটিভ শক্তিরও বাস, তাই আমরা ঈশ্বরকে মন দিয়ে ডাকলে পজিটিভ শক্তির সাথে নেগেটিভ শক্তিও আমাদের মধ্যে প্রবেশ করে।

কিন্তু আমাদেরও উচিৎ কার্বন-ডাই-অক্সাইড এর মতো নেগেটিভ শক্তিকে বার করে দেওয়া।  

ঈশ্বর কি সত্যি না কি অন্ধবিশ্বাস?

যদি আপনাকে প্রশ্ন করি- “শক্তি কি সত্যি, নাকি অন্ধবিশ্বাস? আপনি কি শক্তি দেখেছেন?”

ঈশ্বর ও তো সব শক্তির উৎস। আপনার আমার মধ্যে যেহেতু শক্তি আছে, সেহেতু ঈশ্বরও আছেন। আমরা সকলেই ঈশ্বর শক্তির এক নগণ্য অংশ মাত্র।

মানুষ যখন মারা যায়, সেই মৃত দেহের মধ্যেও শক্তি বিরাজমান।

যখন ওই শরীর কে দাহ করে বা অন্য ভাবে মাটির সাথে মেশানো হয়; তখন ওই শক্তি পরমেশ্বর এর সাথে মিলিত হয়ে যায়।  

ঈশ্বর জিন কি?

প্রতিটি বস্তুর মধ্যে, প্রতিটি প্রাণীর মধ্যে ঈশ্বর জিন বিরাজমান। আর তাইতো আমরা সকলেই ঈশ্বরের সন্তান।

এরপর আপনি বলবেন – যদি সকলের মধ্যে ঈশ্বর জিন থাকে, তাহলে উনি থাকা স্বত্বেও কেও কেও খুবই বাজে হয় কেন? কারন তারা মন থেকে কার্বন-ডাই-অক্সাইড বার করতে পারে না। 

এই জিন হলেন আমাদের অক্সিজেন এর মতো। কিন্তু উনি থাকেন বাতাসে নেগেটিভ শক্তিকে নিয়ে।

এরপর সেই বাতাসে তো এমন অনেক কিছুই আছে যা আমাদের শরীর এর পক্ষে বা মন এর পক্ষে ভালো না।

আপনাকে বাতাস টেনে নিয়ে শুধু অক্সিজেন বাদে বাকী যা কিছু আমাদের জন্য ভালো না; সেই সব কিছু বার করে দেওয়ার টেকনিক জানতে হবে।

উনি এই কোটি কোটি ছায়াপথের প্রতিটি জায়গায় ছড়িয়ে আছে। এই সব কিছু মিলেই তো ঈশ্বর।

ছায়াপথের প্রতিটি কণাতেই ঈশ্বর
ছায়াপথ

ঈশ্বর বা ভগবান শব্দের অর্থ কি?

দুটো শব্দের সমন্বয়ে ঈশ্বর শব্দের উৎপত্তি। এই দুই শব্দ হল – ঈশ এবং বর।

ঈশ শব্দের অর্থ মালিক, শাসক ইত্যাদি। আর বর শব্দের অর্থ হল – সুন্দর, সেরা, চমৎকার।

সুতরাং, ঈশ্বর শব্দের অর্থ হল সেরা শাসক বা সেরা মালিক ইত্যাদি।

ঈশ্বর আর ভগবান একই। ‘ভগ’ শব্দটির অর্থ ছয়টি ঐশ্বর্য মানে ষড়ৈশ্বর্য। আর ‘বান’ শব্দের অর্থ যুক্ত কিংবা সমন্বিত।

যেমন ধনবান মানে যিনি ধনে সমৃদ্ধ, ঠিক তেমনি ভগবান মানে যিনি ষড়ৈশ্বর্য এ সমৃদ্ধ।

যিনি সর্বশ্রেষ্ঠ, যিনি সকল শক্তির মালিক তিনিই ঈশ্বর, তিনিই ভগবান, তিনিই আল্লাহ,তিনিই গড।

আল্লাহ, ভগবান আর গড এর পার্থক্য কোথায়?

যদি আপনাকে প্রশ্ন করা হয় -মেকানিক্যাল শক্তি আর যান্ত্রিক শক্তি এর মধ্যে পার্থক্য কি? আপনি বলবেন- দুটোই শক্তির এক রূপ, কিন্তু দুটো ভিন্ন নাম, দুটো ভিন্ন ভাষায়। ঠিক একইরকমভাবে আল্লাহ, ঈশ্বর, ভগোবান, গড –সব কিছুই একই শক্তি, শুধু ভিন্ন নামে মানুষ তাঁকে ডাকে।

আপনার যেমন অনেকগুলো নাম আছে – বাড়ীতে বাবা মা এক নামে ডাকে, অফিসে কলিগরা অন্য নামে ডাকে, পাড়ার বন্ধুরা আরেক নামে ডাকে। ধরুন আপনার নাম – কৃষ্ণ পদ। বাড়ীতে বাবা মা ডাকে কেশব বলে। পাড়ার বন্ধুরা ডাকে কেষ্ট বলে। অফিসে কলিগরা ডাকে কৃষ্ণ বলে। তাহলে কি কৃষ্ণ, কেশব, কেষ্ট আলাদা? মানুষটা তো একই। কিন্তু হাবভাব, আচরণ কিছুটা ভিন্ন।

আল্লাহ, ঈশ্বর, আর গড ও কিছুটা ভিন্ন, কিন্তু সকলেই একই শক্তি। এখন আপনি বলবেন –ভিন্ন কিভাবে? আপনি যেভাবে ডাকবেন সেই শক্তিকে, আপনার ডাকার ওপর নির্ভর করে সেই শক্তির রূপ বদলায়। যেমন পাড়ার বন্ধুরা কেষ্ট বলে ডাকে বলে কৃষ্ণ বড্ড কেজুয়াল। অফিসে কৃষ্ণ পদ বলে ডাকে বলে কেষ্ট বড্ড ফরম্যাল।      

কিছু মানুষ ভাবেন শিবই ঈশ্বর, সৃষ্টিকর্তা। আবার কিছু মানুষ ভাবেন ঈশ্বরের কোন আকার নেই। যে যেভাবে ভাবতে থাকে তার কাছে সেই শক্তিও সেইভাবে অনুভূত হয়।

ঈশ্বর ভগবান গড -সব এক
ঈশ্বর ভগবান গড

কিছু ধর্মে ভগবানকে নিয়ে গবেষণা নিষিদ্ধ কেন?

আচ্ছা, বাড়ীতে বাচ্চারা যদি নিজেদের জন্মের উৎপত্তি কোথা থেকে, কিভাবে তা বাবা মা এর কাছে থেকে জানতে চায়, সেই বাবা মা কি সব কিছু বৈজ্ঞানিক ভাবে বাখ্যা করে? না, সেই বাবা, মা সব প্রশ্ন এড়িয়ে চলেন, কিংবা প্রচুর বকাবকি করেন বাচ্চাদের?

কিছু ধর্মের মানুষ ভাবেন- যে শক্তি সকল শক্তির উৎস, সেই শক্তিকে যদি মানুষ জেনে যায়, অনেক অনিষ্ট হবে। নেগেটিভ শক্তি সম্পন্ন মানুষগুলো সেই শক্তির অপমান বা সেই শক্তিকে তিরস্কার করতে পারে। আর সেই কারনেই তা নিষিদ্ধ।

আবার কিছু ধর্মের মানুষ ভাবেন- যে ঈশ্বর শক্তি এতোই মহান, এতোই শক্তিশালী যে ওই শক্তি কে হারানোর বা তিরস্কার করার ক্ষমতা কোন নেগেটিভ শক্তি সম্পন্ন মানুষেরও নেই। আর সেই কারনে এই কিছু ধর্মের মানুষ ঈশ্বর নিয়ে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন।  

ভগবান কোথা থেকে এসেছেন?

এই প্রসঙ্গে আগে একটা উদাহরণ দেওয়া যাক। ধরুন আপনার দুটো বাড়ী আছে। একটা বাড়ীতে আপনি থাকেন, আরেকটা বাড়ী ফাঁকাই থাকে। ওই দ্বিতীয় বাড়ীটা পুরো শুন্য। দীর্ঘদিন আপনার ওই বাড়ীতে কোন যাতায়াত নেই। তারপর অনেক মাস পর আপনি যদি ওই বাড়ীতে যান, আপনি কি দেখবেন?

আপনি দেখবেন আপনার শুন্য বাড়ীটা আর শুন্য নেই। সেখানে আশ্রয় নিয়েছে নানান রকমের জীব যেমন টিকটিকি, আরশোলা, মাকড়সা, আরও নানান রকমের পোকা মাকড়। পরিবেশ এর ওপর নির্ভর করে এইসব জীবের সৃষ্টি হয়েছে।

কে বলেছে শুন্যের কোন মুল্য নেই? শুন্য হলেই তো তা পুনরায় ভর্তি হওয়ার ক্ষমতা রাখে। এই মহাশুন্যেরও অসীম ক্ষমতা। আর সেই অসীম ক্ষমতা থেকেই তো ঈশ্বরের সৃষ্টি। ঠিক তেমনভাবেই আমরা যদি আমাদের মনকে একদম শুন্য করে রাখতে পারি, একদম চিন্তাশূন্য, ভাবনাশুন্য মন, তাহলেই আমরা ঈশ্বরের অস্তিত্ব অনুভব করবো।

শুন্যের যে বিশাল ক্ষমতা তা অঙ্ক থেকে বোঝা যায়। এক এর পিঠে একটা শুন্য বসালেই তা কতোগুণ বেড়ে যায়। তাহলে এই অসীম শুন্যের পাশে যখন ঈশ্বর বসে থাকেন, তখন তার ক্ষমতা কতখানি হয়ে যায়, তা নিশ্চয় অনুমান করতে পারছেন।

শুন্য থেকেই তো ঈশ্বর
শুন্য এর বিশাল ক্ষমতা

উপসংহার

ঈশ্বর হলেন সব ছায়াপথের শক্তির সমষ্টি। আপনি যদি ঈশ্বর হয়ে থাকেন, তাহলে আপনার শরীরের যে প্রতিটি কোষ সেইগুলো হবে মানুষ, অন্যান্য জীব ইত্যাদি। আপনার শরীরের মধ্যে যেসব তরল পদার্থ বয়ে যায়, তা হবে নদী, সমুদ্র, পুকুর, আমরা যে জল পান করি তা।

আপনার শরীরে যেসব একুইপমেন্ট যেমন পাকস্থলী, হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস ইত্যাদি রয়েছে , সেইসব হল বিশেষ জায়গা যেমন মহাদেশ, দেশ, জিলা, গ্রাম ইত্যাদি।

আমরা, আপনারা যেভাবে ঈশ্বরকে বোঝার বা খোঁজার চেষ্টা করে থাকি, আমাদের, আপনাদের শরীরের কোষগুলোও ঠিক সেইভাবে ঈশ্বরকে খোঁজার চেষ্টা করে থাকে।

কিন্তু যেহেতু সমগ্র কোষ এবং আরও অনেক কিছু নিয়ে আপনি তৈরি হয়েছেন, তাই কোষ গুলো কি সেই ঈশ্বর মানে আপনাকে খুঁজে পাবে কখনো? না কখনোই পাবে না, কিন্তু অনুভব তো অবশ্যই করতে পারবে।     

আশা করি আপনারা ঈশ্বর কে সম্পর্কে অবগত হয়েছেন। তাই মনের মধ্যে প্রচুর বিশ্বাস রেখে এগিয়ে যান। সুস্থ থাকুন, ভালো থাকুন, সবাইকে ভালো রাখুন। চলুন, সবাই মিলে একসাথে এক সুন্দর পৃথিবী গড়ে তুলি। এই পৃথিবীর প্রতিটি কোনা ভরে উঠুক ঈশ্বরের আশীর্বাদে!  

3 thoughts on “ঈশ্বর কে? উনি কি সত্যই আছেন?

  1. আপনার নিখুত তুলনামুলক বিবরন দিয়ে ঈশ্বর কে বুঝানো সত্যি চমৎকার ! আপনার এই লেখনির মাধ্যমে বেচে থাকবে চিরকাল ।।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাম্প্রতিক পোস্ট